বরিশাল জেলা পরিষদের আহ্বান করা ৬৭ লাখ টাকার সড়ক সংস্কার ও কালভাট নির্মাণ কাজ ভাগ-ভাটোয়ারা করে নিয়েছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বরিশাল নগরীর চক বাজার রোডস্থ জেলা পরিষদের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
এসময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অনেকটা নীরব ভুমিকায় থাকতে দেখা গেছে। যদিও তাদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এতে কোনো অনিয়ম হয়নি। যথাযথ নিয়মেই লটারির মাধ্যমে কাজগুলো ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা পেয়েছেন।’
সূত্রমতে, বরিশাল জেলা পরিষদ সম্প্রতি বরিশাল সদর, বানারীপাড়া ও গৌরনদী উপজেলার সড়ক সংস্কার এবং কালভাট নিমার্ণের ক্ষেত্রে ৬৭ লাখ টাকা বরাদ্দে ২৭ গ্রুপে দরপত্র আহ্বান করে। এতে ২৭শ ঠিকাদার দরপত্র ক্রয় পরবর্তী জমা দেন। বৃহস্পতিবার ছিলো পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী লটারির দিনক্ষণ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এ খবরে জেলা ছাত্রলীগ নেতারা সকাল থেকে কার্যালয়ে অবস্থান নেয়। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিক লটারি করার চেষ্টা চালালে তারা এতে বাধা দেয়। পরে জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব আহম্মেদ, গিয়াস উদ্দিন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সুমন সাধারণ ঠিকাদারদের তাড়িয়ে দিয়ে কাজগুলো ভাগ-ভাটোয়ারা করেন। এসময় মো. রুবেল হোসেন নামে এক ঠিকাদার প্রতিবাদ করায় তাকে মারধর করা হয়।
তবে ভুক্তভুগী ঠিকাদররা বলছেন, কোনো প্রকার লটারি না করেই কাজগুলো ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা প্রভাব খাটিয়ে নিয়ে যান। এমনকি কর্মকর্তাদের সামনেই তাদের এক একটি প্রতিষ্ঠানের জমা করা দরপত্র তুলে নিজেরাই নাম ঘোষণা করেন। এসময় সাধারণ ঠিকাদারদের কক্ষের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।
তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রলীগ নেতা রাজিব আহম্মেদ বলছেন, সব ঠিকাদারের উপস্থিতিতেই লটারি করেছেন কর্মকর্তারা। সুতারাং অনিয়মের কোনো প্রশ্ন থাকতে পারে না।
একই প্রশ্নের জবাবে জেলা পরিষদের নিবার্হী কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, যথাযথ নিয়মেই লটারি হয়েছে। এতে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম হয়নি।
জেআই





