তৃতীয় ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে পাবনায় আ’লীগ-বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ত্রিমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় ১ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে চাটমোহর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম ইমদাদুল হোসেন (৩২)। তিনি ওই এলাকার মৃত আমজাদ হোসেনের ছেলে। সে স্থানীয় বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়িত। চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক সালাউদ্দিন জানিয়েছেন তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে ওই কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা দেরি হওয়ায় স্থানীয় আওয়ামীলীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ আজিজুল ইসলাম ও বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের সমর্থকরা উত্তেজিত হয়ে পড়ে।
এ সময় তারা রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর একটি গাড়ীতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।
অপরদিকে ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট বাক্স বের করে নিয়ে যাবার সময়ে বিক্ষুদ্ধরা বাধা দিতে গেলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের প্রতিহত করতে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এ সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে ইমদাদুল হোসেন নিহত হন। আর এ ঘটনায় আরো প্রায় ১০ জন আহত হন। আহতরা বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুব্রত কুমার দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বিজিবি, পুলিশ ও ব্যাটেলিয়ান আনসার সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পৃথক পৃথক ভাবে ১৪ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে।
অপর দিকে বিজিবির সহকারী পরিচালক হোসেন আলী ওই কেন্দ্রের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ফাঁকা গুলি চালানোর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ সময় বিজিবির এক সদস্য আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবী করেন।
এ ব্যাপারে পাবনার পুলিশ সুপার আলমগীর কবির জানান, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে এমদাদুল হোসেন মারা গেছেন।
তিনি বলেন, বিজিবি ৯ রাউন্ড, পুলিশ ২ রাউন্ড ও ব্যাটেলিয়ান আনসার ৩ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করেছে। তবে কোন বাহিনীর ছোড়া গুলিতে তিনি মারা গেছেন. সে বিষয়টি তাৎক্ষণিক ভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতেই তিনি মারা গেছেন বলে নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার।
এমবি





