হেফাজতে ইসলামের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতালের সমর্থনে রাজধানীর পুরানা পল্টনে বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনের এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।

রোববার (২৮ মার্চ) সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে হেফাজত নেতাকর্মীরা হরতালের সমর্থনে এই বিক্ষোভ মিছিল করেন।

হরতালের সমর্থনে হেফাজতের মিছিলটি পল্টন মোড় হয়ে বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে আসে। বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে তারা।

সমাবেশ থেকে বক্তারা গত শুক্রবার চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও গতকাল (শনিবার) ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় সরকারকে দায়ী করে বক্তব্য দেন। একই সঙ্গে তাঁরা এ ঘটনায় ছাত্রলীগ, যুবলীগ জড়িত থাকার অভিযোগ করে তাদের বিচার দাবি করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হেফাজতকর্মীরা বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে অবস্থান নিলে পুরানা পল্টন থেকে দৈনিক বাংলা মোড় পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তাঁরা খানিক পরপরই মিছিল করছেন। বেলা সোয়া ১১টার দিকে হেফাজতের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর নেতারা বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আসেন। এরপর সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন তাঁরা।

সমাবেশে হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হক বলেন, “জনগণ হরতালকে সমর্থন জানিয়েছে। তাঁরা ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন। এটাকে দুর্বলতা ভাবলে ভুল করবে সরকার “

তিনি আরও বলেন, বন্দুকের নল ও সন্ত্রাস দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। ডান-বাম ভেদাভেদ ভুলে সব পক্ষকে নিয়েই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

হেফাজতের অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতাও বক্তৃতা করেন। পরে কেন্দ্রীয় নেতাদের নেতৃত্বে মিছিল নিয়ে পুরানা পল্টনের দিকে এগোতে থাকে মিছিলটি।

এ সময় মুক্তাঙ্গনের দিকে অবস্থান নেওয়া আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মৃদু উত্তেজনা তৈরি হয়। পুলিশ মাঝখানে অবস্থান নিলে হেফাজতের মিছিলটি কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল মোড়ের দিকে চলে যায়।

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে বিক্ষোভে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম, হাটহাজারীসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে সংগঠনের নেতাকর্মীদের হতাহতের ঘটনায় শনিবার (২৭ মার্চ) দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি এবং রোববার (২৮ মার্চ) হরতাল ডাকে হেফাজতে ইসলাম।

এমবি