আগামী বছর ফসল না ওঠা পর্যন্ত হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও জেলেদের খাদ্য সহায়তা দেবে সরকার বলে জানিয়েছেন ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।

বন্যা কবলিত ছয় জেলা সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ সফর শেষে বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মন্ত্রী।

এ সময় সেখানে সচিব শাহ কামালসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং দুর্গত মানুষের পাশে থাকার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্গত এলাকা পরিদর্শনকালে ওইসব এলাকার কৃষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেছি। এ সময় তারা বেশ কিছু দাবি ও সুপারিশ করেছেন। কৃষকরা অতিরিক্ত মাছের পোনা এবং সার-বীজ-কীটনাশক দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। এছাড়া এক বছরের জন্য বিদ্যুৎ বিল মওকুফ, ও হাওর অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপবৃত্তির আওতায় নিয়ে আসার দাবিও করেছেন। আমি তাদের বলেছি, সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবো।’

তিনি আরো বলেন, ‘ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ করতে আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলেছি। বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী এক বছরের জন্য এটা স্থগিত করেছে। এনজিওগুলো সুদের কিস্তি দেওয়ার জন্য কৃষকদের ওপর চাপ দিচ্ছে। আমি এনজিওদের বলেছি, মানবিক দিক বিবেচনা করে আগামী এক বছর তারা ঋণের কিস্তি আদায় যেন স্থগিত রাখে। বন্যা দুর্গত মানুষের বর্তমান অবস্থায় তারা যদি ঋণের জন্য এভাবে চাপ সৃষ্টি করে তাহলে তা হবে মরার ওপর খাড়ার ঘায়ের মতো।’

মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যেই বন্যা কবলিত ৩ লাখ ৩০ হাজার মানুষের মাঝে ভিজিএফ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেক পরিবারকে মাসে ৩০ কেজি করে চাল ও নগদ ৫০০ টাকা দেওয়া হবে। ১০ টাকার মূল্যে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় চাল বিক্রি করা হবে। ওএমএস কর্মসূচির আওতায় আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত খোলা বাজারে ১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির কার্যক্রম চলবে। ১০০ দিনের এসব কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

পরবর্তী ফসল না আসা পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এসব কর্মসূচি তদারকি করতে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিব পদ মর্যাদার দুজন করে কর্মকর্তা প্রত্যেক জেলায় ত্রাণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন।

এমই