টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পৌরশহর এলেঙ্গায় শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দিরের ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে হিন্দু সম্প্রদায়ের দুপক্ষের মাঝে মারামারির ঘটনা ঘটেছে।

এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

জানা যায় মঙ্গলবার দিবাগত রাতে  এলেঙ্গা উত্তরপাড়া শ্রী শ্রী দুর্গামন্দিরের পূর্ব পাশে খালি জায়গায় ঘর নির্মাণ করেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে এলেঙ্গা দক্ষিণ পাড়ার জমিদার বাড়ির লোকজন এসে রাত তিনটার দিকে ঘর ভেঙ্গে ফেলে। এ নিয়ে দুপক্ষের মাঝে মারপিট শুরু হয়।এতে উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হয়।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে এলেঙ্গা উত্তর পাড়া পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত কুমার বশু জানান এলেঙ্গা উত্তরপাড়া শ্রী শ্রী দুর্গামন্দির বর্তমানে ১০ শতাংশ জায়গা উপর রয়েছে। মন্দিরের পূর্ব পাশে ২ শতাংশের মত জায়গা খালি রয়েছে।

প্রয়াত বিচারপতি শ্রদ্ধেয় দেবেশচন্দ্র ভট্টাচার্য এই ১২ শাতাংশ জমির মধ্যে ৭ শতাংশ পাট অধিদপ্তরের নিকট বিক্রি করে দেন।তখন আমাদের লোকজন তাঁর নিকট আর্জি নিয়ে গিয়ে বলেন আমাদের এলাকায় যেহেতু হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উপাসনা করার মত তেমন কোন জায়গা নাই তাই জায়গাটি যদি দিতেন তাহলে আমরা এখানে একটি মন্দির তৈরি করতে পারতাম।

আমাদের এই কথা শুনে উনি জায়গাটি মন্দিরের নামে দেওয়ার জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর  একটি চিঠি লিখেন ১৯৯৯ সালের জুন মাসে।ওইচিঠির প্রেক্ষিতে তখনকার মহাপরিচালক সচিব বরাবর চিঠি লিখেন জায়গাটি মন্দিরের নামে দেওয়ার জন্য। যেহেতু বিচারপতি দেবেশচন্দ্র ভট্টাচর্য জায়গাটি মন্দিরের নামে দিতে চেয়েছিলেন এবং প্রমাণ স্বরূপ ওই দুটি চিঠিও আমাদের কাছে আছে তাই আমরা খালি জায়গায় ঘর উঠাই। কিন্তু জমিদার বাড়ীর লোকজন আমাদের ঘর ভেঙ্গে ফেলেছে।

বিচারপতি দেবেশে চন্দ্র ভট্টাচার্যের বড় ছেলে জগন্নাথ ভট্টাচার্য জানান, মন্দিরের জন্য আমার বাবা যে জায়গা দিয়েছিল সেখানে মন্দির আছেই। কিন্তু মন্দিরের পূর্বে পাশে যে জায়গা ওই জায়গা দেওয়ার কথা ছিল না। রাতের আধারে তারা ওই জায়গাটি দখল করার জন্য মন্দিরের নামে ঘর নির্মাণ করেন। খবর পেয়ে আমার লোকজন ঘর তুলতে বাধা দিতে গেলে তারা অতর্কিত হামলা চালায় এতে আমাদের বাড়ির কেয়ারটেকারসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়।

বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন কালিহাতী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাহরুল ইসলাম তালুকদার, কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু নাসার উদ্দিন, কালিহাতী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ আনোয়ার হোসেন মোল্লা, কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এসময় তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাকর্মীদের সাথে বিষয়টি সমাধানের জন্য কথা বলেন। এবং তারা সকলে মিলে সিদ্ধান্ত নেন স্বারদীয় দুর্গা উৎসোবের ১০ দিন পর ঘটনাটি সমাধানের জন্য চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। এর আগে যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য সকলের নিকট তারা অনুরোধ করেন।

এমএ