এক সপ্তাহের ব্যবধানে পদ্মার ভাঙনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের প্রায় ৫০০ পরিবার সব হারিয়ে পথে বসেছে। তাদের মাথার ওপর ঘর নেই, পেটে খাবার নেই, পরনে নেই কাপড়। নিঃস্ব হয়ে অনেকেই ভিক্ষা করছেন।

এদিকে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা নিয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে।

নদীভাঙন কবলিত এলাকায় গিয়ে কথা হয় মনোহরপুর গ্রামের কুপপাড়া গ্রামের মৃত ইসমাইলের স্ত্রী জলেনুর বেগমের সঙ্গে। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ১১টি আমগাছসহ তার দেড় বিঘা জমি ছিল। কিন্তু গত সপ্তাহে তা পদ্মা নদীতে হারিয়ে গেছে। তিনি তিরিশ রশিয়া গ্রামের আয়েস হাজির বাড়িতে একটি ছোট ঘর তুলে চার ছেলেমেয়ে নিয়ে বাস করছেন। বেঁচে থাকার জন্য ভিক্ষা করতে রাস্তায় নেমেছেন।

একই গ্রামের ইলিয়াস আলীর ছেলে আবদুল লতিফ জানান, তার শেষ সম্বল হিসেবে ৪৪টি ছোট বড় আমগাছসহ সাড়ে তিন বিঘা বসতভিটা ছিল। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে আগ্রাসী পদ্মায় তা বিলীন হয়ে গেছে। একই গ্রামের মৃত এবরান আলীর বিধবা স্ত্রী জমিলা বেগম বলেন, পদ্মায় সবকিছু হারিয়ে যাওয়ার কারণে অন্যের জায়গায় বাধ্য হয়ে তাকে বাস করতে হচ্ছে। তিনি ঘরখানা সম্পূর্ণ সরিয়ে নিতে পারেননি।

গ্রামের শ খানেক মানুষ জড়ো হয়ে জানালেন, তারা এখন পরের জমি বিঘাপ্রতি বাৎসরিক সাত হাজার টাকার বিনিময়ে নিয়ে বাস করছেন। অনেকেই শহরে গিয়ে ভিক্ষা করছে। তারা অভিযোগ করেন, ওই গ্রামে প্রায় ৫০০ পরিবারের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেলেও স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা অনেক কম পরিবারের তালিকা পাঠিয়েছেন।

এলাকাবাসী জানান, গত ৫ সেপ্টেম্বর এ গ্রামের মৃত বজলারের স্ত্রী রেজিয়া বেগম পদ্মায় সবকিছু হারিয়ে পিয়ালীমারী জগন্নাথপুর গ্রামে আপন ভাইদের কাছে একটি ঘর তোলার জন্য জমি চান। কিন্তু না পেয়ে স্ট্রোক করে মারা গেছেন। এদিকে নদীভাঙনে বিলীন হচ্ছে নামো জগন্নাথপুর মণ্ডলপাড়া, নামো জগন্নাথপুর বিশ্বাসপাড়া, রামনাথপুর, চরহাসানপুর গ্রামের শত শত বাড়িঘর।

দুর্লভপুর ইউপি সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত ২৩৯টি পরিবারের তালিকা পাঠানো হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মনোহরপুর কাইঠাপাড়া ও কুপপাড়া গ্রাম, রামনাথপুর গ্রাম ও চরহাসানপুর গ্রাম মিলিয়ে ১৩০টি এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নামো জগন্নাথপুর মণ্ডলপাড়া, নামো জগন্নাথপুর বিশ্বাসপাড়া, আইয়ুব বিশ্বাসের পাড়া ও অন্যান্য এলাকার মোট ১০৯টি পরিবারের তালিকা পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘১৯ আগস্ট ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার ও আমরা এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং তালিকা পাঠিয়েছি। সামনে ভিজিএফের চাল বিতরণের সময় তাদের প্রতি সুদৃষ্টি দেয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহা. সৈয়দ ইরতিজা আহসান বলেন, ‘আমরা জেলা প্রশাসক বরাবর একটি তালিকা পাঠিয়েছি। যাতে জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্তরা উপযুক্ত সাহায্য পায় এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ভাঙন রোধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘তালিকার অন্তর্ভুক্ত হতে যদি কেউ বাকি থাকে এবং আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে, তবে তাদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’

ঢাকা, ১৩ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই