ভিন্ন আবহে পালন হতে যাচ্ছে এবার রাজশাহীর মহান একুশে। শনিবার শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সড়কের বুকে বাসন্তী রঙ আর বর্ণিল আল্পনা ইঙ্গিত দিচ্ছে সেই মাহেন্দ্রক্ষণে।
শনিবারের সূর্য উঁকি দিতেই শহরজুড়ে লাখো কণ্ঠে প্রতিধ্বণিত হবে অমর একুশের প্রভাত ফেরির চিরম্লান গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি...।
মহানগরের নিউমার্কেট এলাকার ফুল ব্যবসায়ীরা জানান, মহান একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে ডালা তৈরির কাজ সামলাতে বর্তমানে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। শহীদ মিনারে আজ একুশের প্রথম প্রহরে যারা শ্রদ্ধা জানাবেন তাদের সন্ধ্যার মধ্যেই ডেলিভারী দেওয়া হয়। তবে চাপ ও চাহিদা বাড়লে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ চলতে পারে বলে জানান তারা।
এদিকে রাজশাহীতে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।
এ জন্য শহীদ মিনার ও আশপাশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচি অনুযায়ী রাজশাহী শহীদ মিনারে শুক্রবার দিনগত রাত ১২টা ০১ মিনিটে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিবসটির সূচনা করা হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সকল সরকারি-আধাসরকারি ও বেসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের ভবন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে সঠিক নিয়মে, সঠিক মাপের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতভাবে উত্তোলন করা হবে। রাজশাহী মহানগরীর সড়ক দ্বীপসমূহে এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে বাংলা বর্ণমালা সম্বলিত ফেস্টুন দ্বারা সজ্জিত করা হবে। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংগঠন, সংস্থা ও সর্বস্তরের জনসাধারণ সকালে প্রভাত ফেরিতে অংশগ্রহণ করবে।
রাজশাহী শিশু একাডেমিতে সকালে চিত্রাঙ্কন ও বাংলায় সুন্দর হাতের লেখা; দুপুরে ভাষার গান/ দেশাত্মবোধক গান এবং রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
রাজশাহী চারুকলা মহাবিদ্যলয়ের ছাত্র-শিক্ষকদের মিলিত প্রয়াসে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিনভর বিভিন্ন সড়কজুড়ে আঁকা হয়েছে আল্পনা। ফুলের দোকানে তৈরি হয়েছে ডালা। সব আয়োজন ও প্রস্তুতিই যেনো শেষ হয়ে এসেছে। এখন অপেক্ষা শুধু রাত পেরিয়ে সূর্যের মুখ দেখা।
এআই/





