বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, হত্যায় উৎসাহিত করাই আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি, বিএনপির নয় । নিজেদের সীমাহীন ব্যর্থতা ঢাকতেই জনদৃষ্টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্যই তারা মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়ার মতো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

রিজভী বলেন, 'যে প্রধানমন্ত্রী একটির বদলে দশটি লাশ ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তার ক্যাডাররা সেটি করতে পারছে না বলে বিদ্রুপ করে বলেছিলেন শাড়ী পড়তে। সুতরাং হিংসাত্মক আক্রমণ, লুটপাট, ভাংচুর, খুন, জখম, গুম, অপহরণ ইত্যাদি অনাচার আওয়ামী লীগের জন্মগত বৈশিষ্ট্য। ইতোমধ্যে যতগুলি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে তার কোনোটিরই সুরাহা করতে পারেনি এই ভোটারবিহীন সরকার।'

খুনের চিত্র তুলে ধরে রিজভী বলেন, রাজধানীর কলাবাগানে বাসায় ঢুকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাবেক প্রটোকল কর্মকর্তা ও তার বন্ধুকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এর ৭২ ঘন্টা আগে নিজ বাসার সামনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে কুপিয়ে হত্যা করে দুস্কৃতিকারীরা। এর আগে গতকাল সকালে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে সাবেক প্রধান কারারক্ষী রুস্তম আলী (৬০) নিহত হয়েছেন। আমি বিএনপির পক্ষে সকল হত্যাকাণ্ডের তীব্র ধিক্কার, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে অপরাধীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।

হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিএনপি জামায়াতের ইন্ধন প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে মনে হয়-চরম অরাজকতার ঘণ অন্ধকারের মধ্যে দেশ। জুলহাজ মান্নান ও মাহবুব তনয়ের হত্যাকাণ্ডের পর প্রধানমন্ত্রী একটি সভায় বলেছেন-‘এগুলোর সাথে বিএনপি-জামায়াত জড়িত।’

রিজভী বলেন, আইনী প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রী চটজলদি কি করে বললেন যে, হত্যাকাণ্ডের সাথে বিরোধী দল জড়িত। এরআগেও বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পরপরই বিভিন্নভাবে চেষ্টা করা হয়েছে বিএনপির লোকদের জড়িত করার। এর অর্থ দাঁড়ায়-দেশে তাদের নিজেদের সীমাহীন ব্যর্থতা ঢাকতেই জনদৃষ্টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্যই তারা মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়ার মতো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। কারণ সন্ত্রাসনির্ভর এই সরকার সন্ত্রাসবাদের অন্ধগলিতে পথ হারিয়ে ফেলার কারণেই এখন উন্মাদের মতো কথা বলছে। প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে দমনে রক্তাক্ত পন্থা অবলম্বন করে নিজের মসনদকে কন্টকমুক্ত রাখতে গিয়েই দেশব্যাপী হত্যা আর লাশের উৎসব চলছে। বিএনপির এই নেত বলেন, সরকার দলীয় ক্যাডাররা উস্কানি পেয়ে ভয়াবহ বেপরোয়া হয়ে ওঠার কারণে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা এখন চরম হুমকির মুখে।

তিনি বলেন, হত্যাকে উৎসাহিত করাই আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি, বিএনপির নয়। ইতোমধ্যে যতগুলি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে তার কোনটিরই সুরাহা করতে পারেনি এই ভোটারবিহীন সরকার। শুধুমাত্র মদগর্বী আস্ফালন, হুমকি আর নিজেদের অপকীর্তি অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এসব করেও সরকারের কোনো লাভ হবে না। সরকারের পা এখন চোরাবালির ওপরে, ক্রমাগতভাবে অতলে তলিয়ে যাচ্ছে।

রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। এসময় কেন্দ্রীয় নেতাদের কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

এমআইএস