কম ভোটারের উপস্থিতিতেই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপ-নির্বাচনে ভোট গ্রহণ চলছে। আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও ভোটারদের উপস্থিতি ছিল অনেক কম। অনেক ভোটকেন্দ্রই ছিল ফাঁকা। অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে ভোট গ্রহণের সাথে সংশ্লিষ্টদের।
এদিকে, সকাল সাড়ে ৮টা থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আর ভোটার স্লিপ সরবরাহ না করার কারণে অনেকেই ভোটকেন্দ্রে আসছেন না বলেও জানা গেছে। আর যারাই কেন্দ্রে আসছেন তারাও পড়েছেন ভোগান্তিতে।
বেশ কয়েকটি এলাকার ভোটারের সাথে কথা বলে জানা যায়, শহর ও বন্দরের অনেক এলাকায় ভোটারদের কোনো ভোটার স্লিপ দেওয়া হয়নি। এ কারণে কেন্দ্রে গেলে বিলম্ব হয়। ভোটার স্লিপ না দেওয়ার কারণেই ভোটকেন্দ্রে তারা যাচ্ছেন না।
এদিকে, সকাল ১১টা পর্যন্ত কোনো প্রার্থীর নিকট হতে ভোটে অনিয়ম সংক্রান্ত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। প্রথম তিন ঘণ্টায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোট চলছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
সকালে শহরের নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিমিটেডে, সরকারি মহিলা কলেজ, গণবিদ্যা নিকেতন, নারায়ণগঞ্জ বার একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়, বিবি মরিয়ম উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও বন্দরের কয়েকটি কেন্দ্রে দেখা গেছে ভোটার উপস্থিতি অনেক কম।
বার একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রিজাইডিং অফিসার নারায়ণ চন্দ্র মণ্ডল জানান, ভোটারদের উপস্থিতি কিছুটা কম। সকাল ৯টায় এ কেন্দ্র পরিদর্শন করে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেলিম ওসমান জানান, বৈরী আবহাওয়ার জন্য ভোটার আসতে সময় লাগবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। নিরাপত্তার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কৃষক শ্রমিক জনতালীগের গামছা প্রতীকের শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ভোটারদের উপস্থিতি কম। তাই এখনো কিছু বলা ঠিক হবে না। আশা করছি শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হবে।’
অবসানের প্রত্যাশা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনের এই উপনির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা। বিকেল চারটা পর্যন্ত টানা ভোট নেওয়া চলবে।
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনা এবং এর আগে মেধাবী ছাত্র ত্বকী হত্যার কারণে এই নির্বাচনে সন্ত্রাস প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাসের এসব ঘটনার সঙ্গে ওসমান পরিবারের সদস্যদের নাম ঘুরেফিরে আলোচনায় এসেছে।
স্থানীয় ভোটার ও স্থানীয় রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য, নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে আজকের এই নির্বাচন হবে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শান্তির লড়াই।
আওয়ামী লীগের বহুল আলোচিত সংসদ সদস্য (নারায়ণগঞ্জ-৪) শামীম ওসমানের ভাই জাতীয় পার্টির সাংসদ নাসিম ওসমান গত ২৯ এপ্রিল মারা গেলে আসনটি শূন্য হয়। এই আসনে তাঁদের আরেক ভাই সেলিম ওসমান জাতীয় পার্টির মনোনয়নে প্রার্থী (লাঙ্গল প্রতীক) হয়েছেন।
আওয়ামী লীগ এখানে কোনো প্রার্থী দেয়নি। এই আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়ক এস এম আকরাম স্বতন্ত্র প্রার্থী (প্রতীক আনারস) হয়েছেন।
এ নির্বাচনে আরও দুজন প্রার্থী আছেন। তাঁরা হলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার ও মামুন সিরাজুল মজিদ। অবশ্য এ দুজনের তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি।
২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিতর্কিত শামীম ওসমানকে সমর্থন দেওয়ায় এস এম আকরাম দল থেকে পদত্যাগ করেন। ওসমান পরিবারের সদস্য সেলিম ওসমানের বিপরীতে প্রার্থী হওয়ায় উচ্চশিক্ষিত এস এম আকরামকে ইতিমধ্যে নাগরিক সমাজসহ অরাজনৈতিক বিভিন্ন সংগঠন সমর্থন দিয়েছে।
এস এম আকরামের বিরুদ্ধে কখনো কোনো মামলা ছিল না বলে তাঁর হলফনামায় উল্লেখ আছে। অপরদিকে, নির্বাচনের হলফনামায় সেলিম ওসমান লিখেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে পাঁচটি ফৌজদারি মামলা ছিল।
এ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৪২ হাজার ৪০৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৭৪ হাজার ৩১১ এবং মহিলা এক লাখ ৬৮ হাজার ৯৪ জন। মোট ভোটকেন্দ্রের মধ্যে বন্দর উপজেলায় ৮৯টি এবং নারায়ণগঞ্জ সদরে ৫২টি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, ভোটের দিন শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবি, র্যাব, পুলিশ, আর্মড পুলিশ ও আনসারের পর্যাপ্তসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে কেবল র্যাবেরই এক হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। গতকাল থেকেই শহরে টহল দিচ্ছে আধা সামরিক বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
কর্মকর্তারা দাবি করছেন, কোনো গডফাদার বা তাদের সন্ত্রাসী বাহিনীর কেউ সুবিধা করতে পারবে না। ইতিমধ্যে এ-জাতীয় ব্যক্তিদের তালিকা করে নজরদারিও শুরু করা হয়েছে।
ঢাকা, ২৬ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি





