ঠাকুরগাঁওয়ের ১২৫ বর্গ কিলোমিটার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন অবাধে ফেনসিডিলের চালান আসছে। এর বিনিময়ে চোরাকারবারিরা ভারতে সোনা পাচার করছে বলে সুত্র জানিয়েছে।
জানা গেছে, জেলার বালিয়াডাঙ্গী, রাণীশংকৈল, হরিপুর ও পীরগঞ্জ উপজেলার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে চোরাকারবারিদের স্বর্গরাজ্য পরিণত হয়েছে। একটি বিশেষ মহলকে হাত করে সংশ্লিষ্টরা ওপার থেকে ফেনসিডিল আনছে। আর বাংলাদেশ থেকে কেজি-কেজি সোনা পাচার করছে।
গত ২৭ জুন পীরগঞ্জ উপজেলার রণসিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে সীমান্তে অপরাধ প্রতিরোধ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় দিনাজপুর-৪২ বিজিবি’র পীরগঞ্জের দানাজপুর বিওপির কমান্ডার রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
জাবরহাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলম চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, রণসিয়া সীমান্তে দিয়ে গরু আসার সময় ফেনসিডিল আসছে। অন্যদিকে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার আমজানখোর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য লাজিবুদ্দিন জানান, রত্নাই, মরাধার, বেউরঝারীসহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অপ্রতিরোধগতিতে ওপার থেকে ফেনসিডিল আসছে। এর বিনিময়ে দেশ থেকে সোনা পাচার হচেছ।
সুত্র জানায়, বালিয়াডাঙ্গীর এক ইউনিয়ন জনপ্রতিনিধি’র ছেলে এবং লাভলু নামে ওই জনপ্রতিনিধির আত্মীয় গ্যাং লিডার হিসেবে চোরাকারবারিদের বাহক হিসেবে কাজ করছে। এদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় শীর্ষ নেতা ও আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের সর্ম্পক রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভারত থেকে অবৈধ পথে আসা ফেনসিডিল উপজেলা শহর হয়ে জেলা শহরে প্রবেশ করছে। পরে মোটর সাইকেলে ফেরি করে তা’ বিক্রি হচেছ। একটি নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায়, ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন ভাঙ্গরি ব্যবসায়ী ও ফেরিওয়ালারা এই কারবারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। এর খরিদ্দার উঠতি বয়সী তরুন ও অপরাধ জগতের সদস্যসহ নানা পেশার মানুষ।
জানা গেছে, বিকাল বা সন্ধ্যার আগে শত শত তরুন মোটর সাইকেল দাফিয়ে বালিয়াডাঙ্গী ও পীরগঞ্জের বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের নির্জন এলাকা ও বিভিন্ন বাসাবাড়িতে যায় ফেনসিডিলের নেশায়। পরে এসব নিয়ে গন্তব্য স্থলে ফিরে তারা।
এসব তরুনরা ভারাটে হিসেবে জমি দখল, দলবাজী, নিরিহ মানুষকে হয়রানী নানা অপরাধে জড়িত বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। মাদক চোরাচালান বিষয়ে ঠাকুরগাঁও-৩০ বিজিবি’র অধিনায়ক লে.কর্ণেল খাদেমুল বাশার বলেন, সীমান্তে অপরাধ দমনে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
সোহেল/এমএনজে





