দক্ষিণ চট্টগ্রামে বঙ্গোপসাগর, কর্ণফুলী ও শঙ্খ নদীর ভাঙন প্রতিরোধে এবার সাড়ে ৮০০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের খবর নেই। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দক্ষিণ চট্টগ্রামের ভাঙন প্রতিরোধের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের চাহিদাপত্রের মাধ্যমে পানি উন্নয়ন বোর্ড ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এই প্রজেক্ট প্রোফাইল তৈরি করেন।
১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে লণ্ডভণ্ড দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকার ভাঙন প্রতিরোধ ও জলোচ্ছ্বাস ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড শত শত কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিলেও বেড়িবাঁধগুলো মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।
নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর একইভাবে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের চাহিদাপত্রের মাধ্যমে দক্ষিণ চট্টগ্রামে ভাঙন প্রতিরোধের জন্য আড়াই শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৯টি প্রকল্প গ্রহণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রকল্পগুলো গ্রহণ করলেও এক দফতর থেকে অন্য দফতরে চিঠি চালাচালির মধ্যেই পার হয়েছে ছয়টি বছর।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের ভাঙন প্রতিরোধে গত অর্থবছরে নতুনভাবে নেয়া প্রকল্পগুলো হলো বাঁশখালী আলেকদিয়ায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ ১২ কোটি টাকা, ছনয়া-সরল-খানখানাবাদ এলাকায় স্থায়ী এবং অস্থায়ী মাটির বেড়িবাঁধের জন্য ২০০ কোটি টাকা। আনোয়ারা থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত ২৩৪ কোটি টাকার প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে মাটির বেড়িবাঁধ ও স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ। ২৫টি স্লুইস গেট নির্মাণ, ৯টি নতুন স্লুইস গেট স্থাপন।
সাতকানিয়ায় ১৫৫ কোটি টাকায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ, মাটির বেড়িবাঁধ, ডলু নদীতে দু'টি রাবার ড্যাম, একটি আধুনগরের ওপরে, অন্যটি সদরে। এ ছাড়া সুখছড়ি খালের মুখে আরো একটি রাবার ড্যাম নির্মাণের প্রকল্প রয়েছে এতে। পটিয়ায় ২৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ, সাতটি ইনলেট ও ছয়টি আউটলেট স্থাপন এবং উত্তর দেয়াং এলাকায় একটি ওয়ানব্যান্ড স্লুইস গেট নির্মাণ প্রকল্প। বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য ২.৬ হেক্টর জমিও অধিগ্রহণ করা হয়েছে।
বোয়ালখালী রাউজান মিলে ৭১ কোটি টাকায় ২১টি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের ৯টি কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এ ছাড়া চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার ওপর দিয়ে প্রবাহিত শঙ্খ নদীর উভয় তীরে ভাঙন প্রতিরোধে ১৫০ কোটি টাকার প্রকল্প নেয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে ইতোমধ্যে গৃহীত প্রকল্পগুলো ডিপিপি তৈরি করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সদর দফতরে পাঠানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম-১৪ চন্দনাইশ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, সরকার ইতোমধ্যে দক্ষিণচট্টগ্রামে ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের কার্যকরী উদ্যোগ নিয়েছে।
চট্টগ্রাম-১৬ বাঁশখালী থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, এবার বাঁশখালী উপকূলীয় এলাকায় স্থায়ীভাবে বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষাকরে বাস্তবভিত্তিক প্রজেক্ট প্রোফাইল তৈরি করে পাঠানো হয়েছে এবং অচিরেই তা অনুমোদন হয়ে কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড মদুনাঘাটের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী বলেন, ২১টি প্রকল্পের মধ্যে ৯টি প্রকল্পের টেন্ডার সমাধা হয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রকল্পে আবার টেন্ডার হচ্ছে। অন্য প্রকল্পগুলোও বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।
আনোয়ারা উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আইনুল হক বলেন, ইতোমধ্যে আনোয়ারা ও পতেঙ্গা মিলে ২৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রজেক্ট প্রোপাইল তৈরি করে সদর দফতরে পাঠানো হয়েছে। তবে প্রকল্পগুলো নতুনভাবে আবার যাচাইবাছাই করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে ব্যয় আরো বাড়তে পারে বলে তিনি জানান।সূত্র: নয়াদিগন্ত
ইআর





