গাইবান্ধায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ২৯ জনকে আটকের পর জরিমানা ও বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে।

শুক্রবার শহরের বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে তাদের আটক করে পুলিশ।

এ সময় তাদের কাছ থেকে মোবাইল ও এক ধরনের বিশেষ ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮ নারী পরীক্ষার্থীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক মাগফুরুল হাসান আব্বাসী এক হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। বাকি ১১ পুরুষ পরীক্ষার্থীকে ৭ দিন থেকে ১ মাস পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করে জেলা কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন তিনি। এদের মধ্যে হিল্লোল নামে গাইবান্ধা সরকারি মহিলা কলেজের একজন কর্মচারীও রয়েছেন।

গাইবান্ধা আদর্শ কলেজ কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক সরকার মোহাম্মদ শহিদুজ্জামান বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়ার সময় সন্দেহ হলে তিনি ইয়াছিন আলী নামে এক পরীক্ষার্থীর দেহ তল্লাশি করেন। এ সময় তার পাঞ্জাবির সঙ্গে আঠা দিয়ে লাগানো একটি ছোট মনিটর দেখতে পান। মনিটরটির সঙ্গে তারের মাধ্যমে একটি মোবাইল সেটের সংযোগ ছিল।

তার ধারণা ওই পরীক্ষার্থী মনিটরটি ঢেকে রেখে বাইরে থেকে আসা এসএমএস দেখে উত্তরপত্রে লিখছিলেন। পরে তার উত্তরপত্র বাতিল করে তিনি কক্ষ পরিদর্শকের মাধ্যমে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষার্থীদের মোবাইলে এসএমএস করে উত্তর পাঠানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। এর সঙ্গে মূলত কারা জড়িত তাদেরও খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

গাইবান্ধার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আলেয়া খাতুন বলেন, প্রত্যেক পরীক্ষা কেন্দ্রে ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করেছেন। তারপরও যারা পরীক্ষায় বিশেষ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

কেএইচ