বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সাবেক সদস্য, সাতক্ষীরা- ১ আসনের সাবেক এমপি এডভোকেট শেখ আনসার আলী ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
বর্ষীয়ান এই জননেতা সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সহ-সম্পাদক ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন।
মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) দুপুর ১টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে এডভোকেট আনসার আলীর বয়স হয়েছিলো ৭৮ বছর।
তিনি বার্ধক্যজনিত ও মস্তিস্কের রক্তক্ষরণজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে, নাতি-নাতনি ও আত্ব্বীয়স্বজনসহ অসংখ্য শুভাকাক্ষী রেখে গেছেন।
আজ বাদ মাগরীব রাজধানীর বিজয়নগরের বটতলা বাইতুন নুর জামে মসজিদে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। মরহুমের জানাজা নামাজে ইমামতি করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর আমির মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে দোয়া করেন, আল্লাহ যেন তার নেক আমল সমূহ কবুল করে তাঁকে জান্নাতবাসী করেন।
জানাজা পুর্ব সমাবেশে বক্তব্য দেন- জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। জানাজায় আরও উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাবেক এমপি আ ন ম শামসুল ইসলাম, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান, লস্কর মোহাম্মদ তসলিম, কবির আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান, জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল জব্বার, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিনের সভাপতি আব্দুস সালাম, ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক এডভোকেট আলমগীর হুসাইন, পাঠাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক নুরুল আমিন , দফতর সম্পাদক আবুল হাশেম, কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহ-সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা মিঠু প্রমুখ।

শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ছিলেন নিবেদিত প্রাণ: সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম এডভোকেট শেখ আনসার আলী ছিলেন একজন গণমানুষের নেতা। তিনি আজীবন আল্লাহর জমিনে তার দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন। তিনি চেয়েছেন শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা হোক। শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তার রেখে যাওয়া কাজ আমাদের করতে হবে।
জানাযা পূর্ব এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমান। তিনি বলেন, এডভোকেট আনছার আলী ছিলেন একজন গণমানুষের নেতা। তিনি আজীবন আল্লাহর জমিনে তার দ্বীন প্রতিষ্ঠান আন্দোলন করেছেন। তিনি চেয়েছেন সমাজে নামাজ প্রতিষ্ঠা হউক। যাকাতের মাধ্যমে সমাজ থেকে দারিদ্রতা দূর হউক। সমাজের ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হউক। তিনি সব সময় চেয়েছেন এ দেশের শ্রমজীবী মানুষ তাদের অধিকার প্রতিষ্ট হউক। আর এ অধিকার প্রতিষ্টার আন্দোলনে তিনি ছিলেন একজন যুদ্ধা। তার রেখে যাওয়া কাজ আমাদের করতে হবে। তাহলেই সমাজে শ্রমজীবী মানুষ তাদের অধিকার ফিরে পাবে।
এরপর তার ছেলে মরহুমের পক্ষ থেকে সকলের নিকট শেষ বিদায় নেয়। এরপর জামায়াত আমির উপস্থিত সবার কাছে জানতে চান তিনি কেমন মানুষ ছিলেন। উপস্থিত সকল মুসল্লি এক বাক্যে সাক্ষ্য দেন তিনি একজন ভালো মানুষ ছিলেন। এসময় জামায়াতের আমির বলেন, আল্লাহ যেন আমাদের এ সাক্ষ্যকে আখেরাতে তার সুপারিশের উছিলা করেন।
নামাজে জানাযা শেষে মরহুম শেখ আনসার আলীকে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
জামায়াত আমিরের শোক: বিশিষ্ট আইনজীবী এডভোকেট শেখ আনসার আলীর ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান শোকবাণী দিয়েছেন।
শোকবাণীতে তিনি বলেন, এডভোকেট শেখ আনসার আলী কিশোর বয়স থেকেই ইসলামী আন্দোলনের একজন নিবেদিত প্রাণ দাঈ ছিলেন। ৮০ ও ৯০ এর দশকে গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও কর্মসূচিগুলোতে তার ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ৯০ এর দশকের শেষ দিকে তিনি ঝুঁকি নিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনসমূহ সফল করে তোলার দায়িত্ব পালন করেছেন। শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে তিনি সব সময় সোচ্চার ভূমিকা পালন করে গেছেন। একজন বিশিষ্ট আইনজীবী হিসেবেও তিনি যথাযথ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশে ইসলামের প্রচার এবং প্রসারে তার উজ্জ্বল ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার ইন্তিকালে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার সকল নেক খেদমত কবুল করুন এবং তাকে জান্নাতুল ফিরদাউসে উচ্চ মাকাম দান করুন, আমীন।
শোকবাণীতে তার শোক-সন্তপ্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাদেরকে এ শোকে ধৈর্য ধারণ করার তাওফিক দান করুন।
শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের শোক: এডভোকেট শেখ আনসার আলীর ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাবেক এমপি আ ন ম শামসুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান যৌথ শোকবানী দিয়েছেন।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের শোক: এডভোকেট শেখ আনসার আলীর ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। এক যৌথ শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ মরহুমের ইসলামের প্রচার ও প্রসারের অগ্রণী ভুমিকার কথা স্মরণ করে এ শোক প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের শোক: সাবেক এমপি, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সহ-সম্পাদক ও বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের সহ-সভাপতি এডভোকেট শেখ আনসার আলীর ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করে বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল ও সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী মতিউর রহমান আকন্দ শোকবাণী দিয়েছেন।
এমবি





