সুনামগঞ্জ তাহিরপুর উপজেলার পল্লীতে গৃহবধূকে ধর্ষণ করায় সম্মানহানির লজ্জা সইতে না পেরে স্বামী  আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় দুই ধর্ষক, ৫ সালিশকারীসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ধর্ষক ও সালিশকারীদের বিরুদ্ধে তাহিরপুর থানায় ১৭ জনকে আসামি করে দুটি মামলা করেছেন ধর্ষিতার বাবা সুবোধ চন্দ্র দাস।

পুলিশ ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে ধর্ষিতার স্বামী কমল সরকার হাওরে মাছ ধরতে যায়। এ সময় তার স্ত্রী বাড়িতে একা ঘুমিয়ে ছিল। এ সুযোগে একই গ্রামের প্রতিবেশী রুপেশ সরকারের বখাটে ছেলে রাজীব সরকার (২৪) ও মৃত কটু সরকারের ছেলে অমল সরকার (৩৫) কমল সরকারের ঘরে ঢুকে হাত-পা বেঁধে পালাক্রমে তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করে।

কমল বাড়ি এসে দেখতে পায় তার স্ত্রীর হাত-পা বাঁধা। বাঁধন খুলে দিতে স্ত্রী তাকে ধর্ষণ ঘটনার বিস্তারিত খুলে বলে। এ ঘটনায় বুধবার বিকালে পৈণ্ডুব গ্রামের শ্যামল তালুকদারের বাড়িতে সালিশ বসে।

সেখানে ধর্ষকরা ধর্ষণের কথা স্বীকার করে। এরপর বিচারকগণ ধর্ষকদের ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে  এবং ধর্ষিতার জুতা ও টিন গলায় বেঁধে সারা গ্রামে ঘোরানো হয়।

বিচারে সন্তুষ্ট হতে না পেরে স্বামী কমল সরকার গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে তাহিরপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. হানিফ, এসআই শফিকুল ইসলাম লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন।

এদিকে ধর্ষিতাকে পরীক্ষার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ধর্ষিতার পিতা উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের বানিয়াগাঁও গ্রামের সুবোধ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে তাহিরপুর থানায় ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দুই ধর্ষককে অভিযুক্ত করে একটি মামলা ও আত্মহত্যায় প্ররোচণার দায়ে ধর্ষক ও সালিশকারীসহ ১৭ জনকে আসামি করে অপর একটি মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ বুধবার মধ্যরাতে ৫ সালিশকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। এদিকে তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শহিদুল্লাহর নেতৃত্বে পুলিশ পাশের মধ্যনগর থানার আবিদনগর গ্রাম থেকে ধর্ষক অমল ও রাজীবকেও গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার সালিশকারীরা হলো পৈন্ডুব গ্রামের কৃপা সিন্ধু সরকার, কাজল সরকার, জয়ন্ত সরকার ও পার্শ্ববর্তী জামালগঞ্জ উপজেলার হরিণাকান্দি গ্রামের ফখর উদ্দিন ও রফিকুল ইসলাম। অপর আসামিরা হলো পৈন্ডুপ গ্রামের সজিব তালুকদার, বিমল তালুকদার, দেবেষ তালুকদার, রতি তালুকদার, চিত্তরঞ্জন তালুকদার, সামন্ত তালুকদার, সিতু তালুকদার, প্রবোদ চন্দ্র সরকার, মন্টু তালুকদার, অনিল সরকার।

মামলার বাদী সুবোদ চন্দ্র দাস বলেন, আমার মেয়ে ধর্ষণের কথা আমাকে বলেছে। তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শহীদুল্লাহ বলেন, ধর্ষক ও সালিশকারী ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এমআর