রমজানকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য কাচাঁ বাজারে মূল্য ঊর্ধ্বমূখি থাকলেও রমজান পরবর্তী সময়ে বাজারে মাছ-মাংশ, শাক-সবজিও কাচাঁবাজারের মূল্য কমিয়ে আসার কোন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

কাওরান বাজার, হাতিরপুল, নিউমার্কেট ও মিরপুরসহ রাজধানীর বাজারে ঘুরে জানা গেল এমনই তথ্য।

রমজান মাসে যেখানে টমেটোর মূল্য ছিল ৩০ টাকা, এখন সে টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। করলার মূল্য ৫০টাকা আর ঢেড়ঁশ রমজান মাসে ৩০টাকায় পাওয়া গেলেও এখন তা ৬০টাকা।

ঝিঙ্গা, পটল, ধুন্দল, চিচিঙ্গা শসা ৩০ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে রয়েছে। আলুর জাত ভেদে ১৮,২৫, ৩০ টাকা মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। কাচাঁ মরিচ রমজান মাসে ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৮০-৮৫ টাকায়।

ডাটা শাক, পাট শাক আটি প্রতি ১০ টাকা, পুইঁ শাক ১৫-২০টাকা, কলমি শাক আটি প্রতি ৫ টাকা আর লাল শাকের আটি ১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

চালের মধ্যে সাধারণ মিনিকেটের মূল্য ৪১ থেকে ৪৮ টাকা পর্যন্ত। চিনিগুড়া প্যাকেটজাত ১০০ টাকা আর খোলা ৮৫ টাকা। কালজিরা চাল খোলা ৯০ টাকা আর প্যাকেটজাত ১২০ টাকা। স্বর্ণা চাল ৩০ টাকায়ও পাওয়া যাচ্ছে।

মসূরি ডাল রমজানের চেয়ে আরো বাড়তি, কেজি প্রতি ১৩০ টাকা। পিয়াঁজের মূল্য ৪৫ ও ৫০ টাকা। রসুন ৮০ টাকা আর ইন্ডিয়ান ৯০ টাকা। দেশী আদা ১২০ টাকা আর চায়না ১৪০ টাকা।

ভোজ্য তেলের মধ্যে খোলা সয়াবিন ১১০-১২০ টাকা এবং পাচঁ লিটার কোয়ালিটি ভেদে ৪৫০,৪৬০ এবং ৪৮০ টাকা পর্যন্ত। এক লিটার বোতল বিক্রি হচ্ছে ১১০-১২০ টাকায়।

মাছের বাজারে ইলিশের আকার ভেদে মূল্যেরও তারতম্য রয়েছে, প্রতি হালি ৩ হাজার - ৩ হাজার দুইশত টাকার মধ্যে। কোরাল মাছের মূল্য একটু বেশি, একদাম ৭০০ টাকা।

বড় রুইমাছ কেজি প্রতি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা। টেংরা মাছ জীবিত ৬০০ টাকা আর মাঝারি বা ছোট ৫০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে ।

চিংড়ি মাছের মূল্য বড় কেজি প্রতি ৭০০, আর ছোট ৪০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। নাইলোটিকা কেজি প্রতি ১২০ এবং পাঙ্গাশ কেজি প্রতি আকার ভেদে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা আর কাচকি মাছ কেজি প্রতি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। চাষের কই ১৫০ টাকা।

গরুর মাংশ রমজানে কেজি প্রতি হাড় সহ ৪০০ আর হাড় ছাড়া ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও সে দর এখনও কমেনি। দেশি মুরগি কেজি প্রতি ৩০০, পাকিস্তানি কক ২৮০, ব্রয়লার ১৭০, লিয়ার মুরগি ১৮০টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নিউমার্কেট কাচাঁবাজারে আসা কবির হোসেনের কাছে বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে টাইমনিউজকে তিনি জানালেন, রমজান মাসে বলতে গেলে কাচাঁবাজারের মূল্য আরও অনেক কম ছিল। মনে করছিলাম রমজানের পরে বাজার দর একটু কমবে, কিন্তু কমেনি, আরো বেড়েছে।

পাইকারি বাজারের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ মূল্যে খুচরা দোকানদাররা সবজি বিক্রি করছেন, ক্রেতা সাধারণ মনে করছেন ভোক্তা অধিকার আইন আছে কিন্তু প্রয়োগ নেই, তাছাড়া প্রশাসনের নজরদারি ও শাস্তির বিধান না থাকায় যে যার মত বিক্রি করছেন।

ভোক্তা অধিকার আইন (৩) উপ-ধারা (১) ও (২) এর অধীন ব্যবস্থা গৃহীত হবার পর অধিদপ্তর নিয়মিত শুনানী, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও তদন্ত করে ভোক্তা-অধিকারের বিষয়টি বিবেচনায় গ্রহণ করে এবং প্রকৃতই এই আইনের কোন বিধানের লঙ্ঘনের ফলে ভোক্তা-অধিকার বিরোধী কার্য হয়েছে কিনা উহা সঠিকভাবে নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

(৩৮) কোন ব্যক্তি কোন আইন বা বিধি দ্বারা আরোপিত বাধ্যবাধকতা অমান্য করে তার দোকান বা প্রতিষ্ঠানের সহজে দৃশ্যমান কোন স্থানে পণ্যের মূল্যের তালিকা লটকিয়ে প্রদর্শন না করে থাকলে তিনি অনূর্ধ্ব এক বৎসর কারাদণ্ড, বা অনধিক পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

এমন বক্তব্য থাকলে প্রকৃত পক্ষে তার কোন কার্যকারিতা ও প্রয়োগ নেই। দেখা গেছে নামে মাত্র দু’একটি দোকানে মূল্য তালিকা থাকলেও অসংখ্য দোকানে এসব বিধান মানা হয়না।

যখন তারা বুঝতে পারেন কোন টিভি ক্যামেরা বা ভ্রাম্যমান আদালতের লোক আসছে, তখন তড়িঘড়ি করে মূল্য তালিকা টাঙ্গানো হয়।

সবজি ব্যবসায়ি কাশেমের কাছে সবজির মূল্য বেশী কেন জানতে চাইলে টাইমনিউজকে জানালেন, এখন সবজির মৌসুম না হওয়াতে মূল্য একটু বেশী।

তাছাড়া বর্ষাতে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় সবজি সরবরাহ কমে গেছে। তাই আমাদের তুলনামুলক এখন সবজি বেশী দামে কিনতে হচ্ছে, যত সম্ভব কম দরে বিক্রি করার চেষ্টা থাকে।

প্রশাসনের নজরদারি আরো বাড়বে এবং ভোক্তা অধিকার আইনেরও যথাযথ প্রয়োগ হবে। ন্যায্য মূল্যে ক্রেতারা তাদের পছন্দের পণ্যটি কিনতে পারবে এমন প্রত্যাশা ক্রেতা সাধারণের।

এমএ/এসএইচ