ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা জানান, ইউনাইটেডের কার্যক্রম শুরুর জন্য এয়ার অপারেটিং সার্টিফিকেটটি (এওসি) নবায়ন করতে হবে। এটা বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (বেবিচক) নবায়ন করে। কিন্তু ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের কাছে বেবিচকের পাওনা রয়েছে ৩৫৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে মূল দেনা ৫৫ কোটির মতো, বাকি টাকা সারচার্জ।
এ টাকা পরিশোধ না করলে এওসি ইস্যু করবে না বেবিচক। এ অবস্থায় ইউনাইটেডের পক্ষ থেকে সারচার্জ মওকুফের অনুরোধ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এই চার্জ মওকুফে সম্মতি দেওয়া হলেও অর্থ মন্ত্রণালয় তা নাকচ করে দেয়।
পর্ষদ সদস্যরা আরও জানান, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ পুনরায় চালু করতে গিয়ে তারা নানাভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছেন। মিটিংসহ নানা কার্যক্রমের সময় পর্ষদের সদস্যরা নিজ পকেট থেকে টাকা খরচ করেন। এছাড়া মিটিং করার জন্য তাদের বর্তমানে কোনো জায়গা নেই। ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের সাবেক এমডির উত্তরার একটি ভবনে তারা আগে মিটিং করতেন। গত এক বছর ধরে ওই ভবনেও তাদের মিটিং করতে দেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া বিমানবন্দরে এয়ারওয়েজের যেই অফিসটি আছে সেটাও ঢুকতে দেয়া হয় না পর্ষদ সদস্যদের।
সম্প্রতি বিএসইসিকে দেওয়া ইউনাইটেড পর্ষদের চিঠিতে বলা হয়েছে, আমরা দায়িত্ব গ্রহণকালে কোম্পানির কোনো তহবিল ছিল না। এ কারণে ব্যক্তিগতভাবে মোটা অঙ্কের টাকা বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে খরচ করা হয় এবং পরবর্তীতে স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড থেকে ২০ লাখ টাকা ধার গ্রহণ করা হয় যা পরিশোধ করার সামর্থ্য এখন কোম্পানির নেই।
এতে বলা হয়, ‘দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ অনাদায়ে থাকায় আমরা প্রতিনিয়তই তাদের পাওনা পরিশোধের ব্যাপারে তাগাদা পাচ্ছি এবং কিছু কিছু সংস্থা-প্রতিষ্ঠান আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যা আমাদেরকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এদিকে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে রক্ষিত এয়ারলাইনের মূল্যবান যন্ত্রাংশগুলো প্রতিনিয়ত চুরি কিংবা খোয়া যাচ্ছে এবং অযত্ন-অবহেলায় উড়োজাহাজগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এ ব্যাপারে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে খুব শীঘ্রই এগুলো স্ক্র্যাপে পরিণত হবে। তখন আর কারোরই কিছু করার থাকবে না। এ অবস্থায় আমরা মনে করি- সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের যদি এয়ারলাইনটি পুনর্জীবন করার ব্যাপারে কোনরূপ সদিচ্ছাই না থাকে, সেক্ষেত্রে আর সময়ক্ষেপণ না করে আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব থেকে সত্বর অব্যাহতি নেওয়াই বাঞ্ছনীয় হবে। এ ব্যাপারে আপনার সুচিন্তিত মতামত পেলে আমরা যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি।’
এমবি





