লালমনিরহাট সদরের তিসতার " খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা:) মডেল আলিম মাদরাসায় আবাসিক ভবনে ভেজাল ইট দিয়ে কাজ করার প্রতিবাদে প্রতিষ্ঠান প্রধানের উপর হামলা ও তার অফিসে ভাংচুর চালায়।
গত শুক্রবার নামাযের পূর্বে ঐ প্রতিষ্ঠানের সেক্রেটারির ছেলে আমিনুল ইসলাম ভাংচুর চালায়।
ভাংচুরের এক পর্যায়ে সে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে আহত করার চেষ্টা চালালে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী রফিকুল ইসলাম এগিয়ে আসেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ শনিবার লালমনিরহাট-ঢাকা মহাসড়কে মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাসহ শত শত মানুষ মানববন্ধন করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীসূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে দীর্ঘদিন ধরে ৬ তলা ভিত্তির ছাত্রদের আবাসিক ভবনের কাজ চলছিল। প্রতিষ্ঠানের সেক্রেটারির ছেলে এ প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন ছাত্র আমিনুল ইসলাম ভবনটির নির্মান কাজে ইট সরবরাহের অনুমতি চাইলে প্রতিষ্ঠান প্রধান মুজিবুর রহমান তাকে ইট সরবরাহের অনুমতি দেন।
কিন্তু সে ভেজাল ইট দিয়ে কাজ শুরু ও ইট সরবরাহ করতে থাকে এবং হাজার হাজার ইট কম দিতে থাকে। এমন জালিয়াতির ব্যাপারে জানতে চাইলেই সে চটে যায় এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানকে গালাগালি শুরু করে। এক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানের অফিসকক্ষে ঢুকে ল্যাপটপসহ অন্যান্য জিনিসপত্র ভাংচুর শুরু করে দেয় এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানের গায়ে হাত তোলার চেষ্টা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানায়, আমিনুল ইসলাম এলাকায় উশৃঙ্খল ও বেয়াদব ছেলে হিসেবে পরিচিতি। এ ঘটনার আগেও সে এ প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র বিএসসি আলী হোসেনকে মারধর করেছিল।
প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, আমরা প্রসাশনের কাছে আমিনুলের যথাযথ শাস্তি দাবি করছি এবং সে দীর্ঘদিন ধরে ভবন নির্মানে যে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে এর বিনিময়ে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানার দাবি জানাচ্ছি।
এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন অত্র এলাকার চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন। তিনি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকে নিয়ে আমিনুলের যথাযথ বিচারের আশ্বাস দেন।
এ প্রতিষ্ঠানটি অল্প সময়ের ব্যবধানে গোটা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রংপুর বিভাগের শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটির সুনাম সরকারী ও বেসরকারী সকল মহলেই আলোচিত হয়। রেজাল্ট ও শিক্ষাগত কার্যক্রমে বরাবরই জেলায় প্রথম স্থান দখল করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মহিলা শাখা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৯ সালে। আর ছেলে শাখা প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৫ সালে।
এর অধীনে ছেলে হিফজ শাখা ও মহিলা হিফজ শাখাও রয়েছে। হযরত ফাতেমাতুজ্জাহরা (রা) মহিলা মাদরাসা ও খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা) মডেল আলিম মাদরাসা উভয় শাখা থেকেই শত শত শিক্ষার্থী দেশে সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
প্রাক্তণ শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে কিছু শিক্ষার্থী সৌদি আরব, তুরস্ক, মালয়েশিয়ায় উচ্চ শিক্ষার্জনে পাড়ি জমিয়েছে। সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা রেকর্ড পরিমাণ সাফল্য বয়ে/ছিনিয়ে আনে প্রতি বছর।
প্রতিষ্ঠানটির এমন অগ্রগতিতে হিংসুকে হয়েছে কিছু কতিপয় ব্যক্তি । তাই প্রতিষ্ঠানটির এমন অগ্রগতিকে থামিয়ে দিতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিষ্ঠানটির একাধিক প্রাক্তন শিক্ষার্থী।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন এলাকার চেয়ারম্যান ও লালমনিরহাট জেলা আওয়ামিলীগের সিনিয়র নেতা গোলাম মোস্তফা স্বপনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
রাশেদুল/এএস





