মিয়ানমারের জলসীমায় উদ্ধার হওয়ার তিনমাস পর পঞ্চম দফায় ১২৫ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তিন মাস তাদেরকে মিয়ানমারের একটি আশ্রয় কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল।
বাংলাদেশের ১৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল মিয়ানমার ইমিগ্রেশন পুলিশের সঙ্গে ৩ ঘণ্টা পতাকা বৈঠক শেষে মঙ্গলবার দুপুর ২টায় ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে তাদের ফেরত আনেন।
পরে তাদেরকে কক্সবাজারজেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
এরপর চারটি বাসে তাদের নিয়ে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্দেশে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ত্যাগ করে কক্সবাজার জেলা পুলিশের একটি দল।
এসময় তাদের সঙ্গে ছিলেন মেডিক্যাল টিম, আইএমও’র প্রতিনিধি দল ও রেডক্রিসেন্টের কক্সবাজার ইউনিটের সদস্যরা।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদ জানান, ফেরত আসাদের মধ্যে ১৪ জেলার বাসিন্দা রয়েছে। তার মধ্যে কক্সবাজার জেলার ৮৪ জন এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক ২৭ জন।
তাদেরকে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পরে অপ্রাপ্তবয়স্কদের আদালতের মাধ্যমে বাড়ি পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে এবং বাকিদের আইএমও’র সহযোগিতায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বিজিবির ১৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল রবিউল ইসলাম জানান, ফেরত আসা ১২৫ জন বাংলাদেশিকে কক্সবাজার জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় তাদেরকে ফেরত আনার লক্ষে মিয়ানমারের তুম্বু টাউনের প্রশাসনিক ভবনে সে দেশের ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের ১৮ সদস্যের প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন বিজিবি কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এম.এম আনিসুর রহমান।
মিয়ানমারের ২৩ সদস্যের প্রতিনিধি দলের পক্ষে নেতৃত্ব দেন মিয়ানমার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনাল রেজিস্ট্রি ডিপার্টমেন্ট পরিচালক ইউ স নাইং।
এর আগে ৮ ও ১৯ জুন, ২২ জুলাই ও ১০ আগস্ট চার দফায় শনাক্ত হওয়া ৫০১ জন বাংলাদেশিকে ফেরত আনা হয়।
গত ২১ মে ২০৮ জন ও ২৯ মে ৭২৭ জনকে মিয়ানমারের জলসীমা থেকে উদ্ধার করেছিল সে দেশের নৌ বাহিনী।
এরপর বাংলাদেশি হিসেবে দাবি করা তালিকা নিয়ে উভয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করে। ওই তালিকায় শনাক্ত হওয়া বাংলাদেশিদের পর্যায়ক্রমে ফেরত আনা হচ্ছে।
এমকে





