গত ৫ বছরে মিথ্যে তথ্য দিয়ে প্রায় ১১ হাজার ১৫০ জন মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়েছেন। এরমধ্যে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশার লোকও রয়েছেন।আর এসব বিতর্কিত ও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে প্রিন্ট, ইলেকট্রিকও অনলাইন মিডিয়ায় প্রকাশিত তথ্য উপাত্ত সংগ্রহে নেমেছে দুদক।
জানা যায়, দুদেকর মতামতের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ৪ সচিবের ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করেছে। এবার আরও পাঁচ সচিব, দুই যুগ্ম সচিব ও এক অতিরিক্ত সচিবসহ অনেক সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যে তথ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সনদ নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি কর্মকর্তারা চাকরির মেয়াদ বাড়ানোসহ নানা সুযোগ-সুবিধা পাবার জন্য অসত্য তথ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়েছেন। যোগদানের সময় নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা দেননি। এমনকি চাকরির প্রায় ৩০ বছরেও তারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সনদ নেননি। আর মুক্তিযোদ্ধার সনদ অংশগ্রহণকারীদের অনেকের '৭১ সালে যুদ্ধে যাবার বয়সই হয়নি।
জানা যায়, এবার মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে অভিযুক্তদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন- প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব কাজী আখতার হোসেন, ধর্ম সচিব চৌধুরী মো. বাবুল হাসান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত সচিব মো. শাহাবউল্লাহ, বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর শফিক আলম মেহেদী, ট্যারিফ কমিশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান, ওএসডি যুগ্ম সচিব জাকির হোসেন, ওএসডি যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ এবং ওএসডি অতিরিক্ত সচিব জাহাঙ্গীর হোসেন।
এছাড়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব পেয়ে মিথ্যে তথ্যের ভিত্তিতে মুক্তিযোদ্ধার সনদ গ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছেন ফিরোজ কিবরিয়া, উজ্জ্বল বিকাশ দত্ত, মিজানুর রহমান ও কে এইচ মাসুদ সিদ্দিকী।
শুধু তাই নয়, এ কর্মকর্তাদের মধ্যে অনেকে আবার তাদের বাবা, ভাইসহ আত্মীয়-স্বজনের নামে সনদ পেতে সহায়তা করেন।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মিজানুর রহমান তার ভাই মোস্তাফিজুর রহমান মুসলিম, ভগি্নপতি তাজ মো. ইয়াসিন, খেলু মিয়া, খালাতো ভাই মাজহারুল কুদ্দুস, মো. মোকাদ্দেসসহ অনেক আত্মীয়-স্বজনকে নিয়মবহির্ভূতভাবে মুক্তিযোদ্ধা সনদ পেতে সহায়তা করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব কাজী আখতার হোসেনের নাম মুক্তিবার্তায় নেই। এমনকি ২০১৩ সালের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নির্বাচনের জন্য যে ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়, সেখানেও নাম ছিল না তার। কুষ্টিয়ার একজন এমপির সুপারিশের কারণে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় স্থান পান কাজী আখতার।
ধর্ম সচিব চৌধুরী মো. বাবুল হাসানের বিষয়ে গোপালগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বদরুদ্দোজা বদর বলেন, চৌধুরী মো. বাবুল হাসান কোথায় মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, তা তার জানা নেই।
এ ছাড়া মো. শাহাবউল্লাহ, শফিক আলম মেহেদী, আজিজুর রহমান ও জাকির হোসেনের এলাকার লোকজনও তাদের মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে প্রশ্ন তোলেছেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের বলেন, আলোচিত অভিযোগ খতিয়ে দেখবেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, ২০০১ সালের পর থেকে অনেকেই অসত্য তথ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সনদ গ্রহণকারী সবাইকেই যাচাই-বাছাইয়ের মুখোমুখি হতে হবে। আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে উপজেলা পর্যায় থেকে যাচাই-বাছাইয়ের কার্যক্রম শুরু হবে। তবে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়েছেন। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধ প্রমাণীত হলে তার শাস্তি পাবেন।
একে





