গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের রামভদ্র সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহির উদ্দিন সর্দারের জন্য কলঙ্কিত দিন ৮ আগস্ট শুক্রবার ২০১৪।
কারণ এই দিন সংসদ সদস্য লিটন তাকে চড় মেরেছিলেন। স্যানিটেশনের জন্য সরকারি বরাদ্দ নিয়ে এমপি লিটনের সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের মতের পার্থক্য থাকার কারণেই ৫০ বছরের এই শিক্ষককে চড় মারে লিটন। লিটন কিভাবে একজন শিক্ষককে চড় মারতে পারলেন। তার বাবাও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ছিলেন।
গাইবান্ধা-১ আসনের এমপি ২ অক্টোবর ১০ বছরের শিশু সৌরভকে গুলি করে আলোচনায় ওঠে আসে। স্থানীয়রা জানান, লিটনের আগে থেকেই এলাকায় কুখ্যাতি রয়েছে। শিক্ষকদের মারধর, নিজের ইচ্ছায় আকাশের দিকে ফাঁকা গুলি ছোঁড়া, মদ্যপান করে রাস্তায় ঘোরাঘুরি করা ও সরকারি স্কুলে চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা ঘুষ নেওয়া সবই লিটনের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য।
জহির উদ্দিনই লিটনের কাছে অপমানিত ও অপদস্ত হওয়া একমাত্র শিক্ষক নন। শফিকুল ইসলাম রামভদ্র প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাকেও অপদস্থ হতে হয়েছে লিটনের কাছে। লিটন এমপি হওয়াতে তার বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করতে পারে না। স্থানীয়দের কাছে এটি সাধারণ ব্যাপার।
সর্বশেষ উপজেলার ৩টি কলেজের ম্যানেজিং কমিটি থেকে বাতিল করা হয় তাকে।সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আব্দুল্লাহ আল মামুন লিটনের বিরুদ্ধে মারাত্মক কয়েকটি অভিযোগ করেছেন। এর মধ্যে হচ্ছে, তার এলাকায় পিয়ন পোস্টে চাকরির জন্য ৬৪ জনের কাছ থেকে ২ থেকে ৪ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন।
এছাড়া ২০১৪ সালে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পরে লিটন ফাঁকাগুলি ছুঁড়ছেন বলে তিনি জানান।স্থানীয়দের মধ্যে অনেকে জানান, লিটনের গুন্ডাবাহিনী এলাকা সরব রাখে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে এমপি লিটন ব্যক্তিগত সহকারি হিসেবে তার স্ত্রী সাইদা খুরশিদ জাহান স্মৃতিকে নিয়োগ দেন।
১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা স্বামী ও স্ত্রী দুজনই মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনে। কিন্তু পরবর্তীতে স্বামীকে নির্বাচনের সুযোগ দিয়ে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন লিটনের স্ত্রী স্মৃতি।
মনোনয়নপত্রের তথ্য অনুযায়ী, লিটন এসএসসি পাশের পরে আর পড়ালেখা চালায়নি। তার স্ত্রী মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। লিটনের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তার স্ত্রী স্মৃতি। তার স্ত্রী ক্ষমতাসীন দলের গাইবান্ধা জেলার মহিলা লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক।লিটন প্রতি রাতে হাসাপাতালের কার্যক্রম সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা পরিদর্শনে বের হতেন বলে তার স্ত্রী স্মৃতি দাবি করেন।
তবে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এমদাদুল হক বাবলু বলেন, লিটন রাতে বের হতেন ঠিকই তবে মদ পানের নেশায় সামাজিক কল্যাণের কাজে নয়। ১৯৯৬ সালে লিটন স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন বলে জানান উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার।নির্বাচন কমিশনের তথ্য মোতাবেক, সাত ভাই বোনের মধ্যে লিটন ষষ্ঠ। আনন্দ গ্রুপ অব ইন্ডাষ্ট্রিজের পরিচালক লিটন।
ধানমন্ডির একটি বাড়ির মালিক লিটন। গাইবান্ধার বাড়িটি ১২ বিঘা জমি নিয়ে।সুন্দরগঞ্জের বিমানদাঙ্গা বাজারে ৬তলা বিশিষ্ট আশরাফ কোল্ড স্টোরেজ নামে একটি হিমাগার রয়েছে তার।
লিটনের মা আলতাফুন নেসা ফ্যামিলি প্লানিংয়ে চাকরি করেন। লিটনের বাবা আশরাফ আলী ১৯৫০ সালে মুসলিম লীগের কর্মী ছিলেন।লিটনের এক বোন যুগ্ম সচিব অন্যজন আনন্দ বিল্ডার্সের মালিক। তার এক বোন ক্ষমতাসীন দলের এক নেতার স্ত্রী। আর অন্যজন হচ্ছে মেরিন ইঞ্জিনিয়ার। লিটনের ভাইদের মধ্যে একজন হচ্ছে কানাডা বিশ্ববিদ্যালয়রের অধ্যাপক অন্য ভাই মেরিন ইঞ্জিনিয়ার।
এমএ





