ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে তরুণীদের যৌন হয়রানির ঘটনায় বুধবার রাতে পুলিশ শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। অপারেশন অফিসার এ কে আজাদ বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অজ্ঞাতদের আসামি করে এই মামলা দায়ের করেন।
গতকাল পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আসাদুজ্জামান। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কমিশনার। পুলিশের অবহেলার বিষয়টি তদন্ত করার জন্য মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলামকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বর্ষবরণ উত্সব উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী ও টিএসসি এলাকায় ১৯টি সিসি ক্যামেরা ছিলো। উদ্যানের ভেতরে পুলিশ কন্ট্রোলরুমে ছিলো মনিটর। ঘটনার সময় বিকাল ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত এসব ক্যামেরায় ধারণকৃত দৃশ্যে যৌন হয়রানির কয়েকটি দৃশ্য দেখা গেছে। একটি দৃশ্যে দেখা গেছে, একজন তরুণীকে চার পাশে ঘিরে যৌন হয়রানি করছিলো এক দল বখাটে। এরমধ্যে এক যুবক ঐ তরুণীকে জড়িয়ে ধরে রেখেছে। এছাড়াও পেছন থেকে কয়েক তরুণীর শরীরে হাত দিয়ে নির্যাতন করতে দেখা গেছে। ধারণকৃত ফুটেজে দেখা গেছে, ছাত্র ইউনিয়নের ঢাবি সভাপতি লিটন নন্দী বখাটেদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করছেন। সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ফুটেজে বস্ত্র হরণের কোন দৃশ্য নেই বলে নিশ্চিত করেছেন পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার আব্দুল বাতেন।
ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরাগুলোর ফুটেজ সংগ্রহ করে বখাটেদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবির উপ-কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায় বলেন, ‘ঘটনাস্থলে সিসি ক্যামেরার ফুটেজগুলো দেখে অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত যেই হোক তাকে গ্রেফতার করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’
ন্যক্কারজনক এই ঘটনার দুই দিন অতিবাহিত হলেও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার সময় বর্ষবরণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও টিএসসিতে পুলিশের বিপুল উপস্থিতি ছিলো। সেখানে তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করছিলো পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে ২৫ গজ দূরে দায়িত্ব পালন করছিলেন শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইদুল হক ভুঁইয়ার নেতৃত্বে একদল পুলিশ। ঐ এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা মনিটর করছিলেন পুলিশের একজন অতিরিক্ত কমিশনার ও একজন সহকারী কমিশনার।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলের পাশে ডাচ বাংলা ব্যাংকের বুথের কাছে এবং মিলন চত্ব্বরে পুলিশ কর্মকর্তারা অবস্থান করলেও তারা ছিলেন নিষ্ক্রিয়। এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তুহিন কান্তি দাশ জানান, ‘নির্যাতিতা নারীদের উদ্ধার করার জন্য বার বার পুলিশ সদস্যদের অনুরোধ করা হলেও তারা কোন ভূমিকা পালন করেননি। আমরা ৫ বখাটেকে ধরে শাহবাগ থানার এসআই আশরাফের কাছে সোপর্দ করেছিলাম। কিন্তু কিছু সময় পরে পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়।’
গতকাল দুপুরে ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেন পুলিশ কর্মকর্তারা। এসময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশের রমনা জোনের উপ-কমিশনার আব্দুল বাতেন, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ইব্রাহিম খান, শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ। লিটন নন্দীসহ প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশ কর্মকর্তাদের পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন।
জেআই





