ব্যাংক ঋণ না পাওয়ার পাশাপাশি ট্যানারি মালিকদের আগ্রহ না থাকায় সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে চট্টগ্রামের চামড়া খাত। কোরবানির আর মাত্র ৩ দিন বাকি থাকলেও এখন পর্যন্ত টাকা কিংবা চামড়া কেনার ব্যাপারে ট্যানারি মালিকদের আশ্বাস কোনোটাই পায়নি আড়ৎদাররা। অথচ বৃহত্তর চট্টগ্রাম থেকে এবারের কোরবানির ঈদে সাড়ে পাঁচ লাখ পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
দেশের চামড়া শিল্পে বড় ধরণের ভূমিকা রেখে চলেছে চট্টগ্রাম। প্রতি বছরই শুধুমাত্র কোরবানির ঈদের সাড়ে তিন থেকে চার লাখ পশুর চামড়ার যোগান দেয় এখানকার ব্যবসায়ীরা। আর এবার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাড়ে পাঁচ লাখ। তবে এ চামড়া সংগ্রহে বড় ধরণের বাধা সৃষ্টি করছে ব্যাংক ঋণ।
চট্টগ্রাম চামড়া আড়ৎদার সমিতির উপদেষ্টা মোহাম্মদ মুসলিম উদ্দিন বলেন, 'সরকার আমাদের এই ব্যবসার জন্য কোন ঋণ দেয় না, ফলে আমরা ভালোভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছিনা'
চট্টগ্রাম চামড়া আড়ৎদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক নূর আহম্মদ বলেন, 'আমরা ব্যাংক ঋণ না পাওয়ার ফলে অন্য জায়গা থেকে চড়া সুদে টাকা নিয়ে ব্যবসার কাঁচামাল আনি, এতে আমাদের লাভ হয় অনেক কম।'
সংগৃহীত চামড়া মুরাদপুর এবং অক্সিজেন এলাকার আড়তে আনার পর অন্তত ১৫ দিন লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। এরপরই পাঠানো হয় ট্যানারিতে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ট্যানারি মালিকরা গত বছরের বিপুল পরিমাণ বকেয়া টাকা এখনো পরিশোধ না করায় বিপাকে আছেন তারা।
চট্টগ্রাম চামড়া আড়ৎদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক নূর আহম্মদ বলেন, 'ট্যানারি মালিকরা আমাদের থেকে মাল নেয় বাকীতে, তারপর ব্যাংক লোনও পায়। আমাদের দিকে কেউ তাকায় না, আমরা প্রতি মুহূর্তে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।'
ব্যবসায়ীরা জানান,পরিকল্পনা অনুযায়ী এবার নগরী থেকে অন্তত সাড়ে তিন লাখ পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হবে। এর বাইরে বিভিন্ন উপজেলার পাশাপাশি তিন পার্বত্য জেলা এবং কক্সবাজার থেকে সংগ্রহ করা হবে বাকি দু’লাখ পশুর চামড়া।
জেআই





