এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট ফোরামের (বিডিএফ) বৈঠক। আগামী ২৬-২৭ এপ্রিল বৈঠক অনুষ্ঠানের জন্য দাতাদের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি দাতাদের সমন্বিত সংস্থা লোকাল কন্সালটেটিভ গ্রুপের (এলসিজি) ডিপি এক্সকম গ্রুপের সঙ্গে প্রস্তুতি সভায় এ প্রস্তাব দেয় অথনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।

সভায় অংশ নেওয়া পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম বলেন, ‘দাতাদের কাছে অর্থমন্ত্রীর দেওয়া সময় অনুযায়ীই বৈঠকের কথা জানানো হয়েছে। তারা বলেছে বিষয়টি তাদের প্রধান কার্যালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে জানাবে।’

এর মধ্যেই সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার খসড়া তৈরি হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এপ্রিলের শেষে বিডিএফ হলে আশা করছি তার আগেই এ পরিকল্পনার একটি চূড়ান্ত খসড়া উপস্থাপন করতে পারব।’

বৈঠকে এক্সকম গ্রুপের সদস্যরা হচ্ছেন—বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডাইরেক্টর জোহানেস জাট, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাজুহিকো হিগুচি, ডিএফআইডির সারাহ কোকি (এক্সকমের ভাইস চেয়ার), কইকার কিম বুক হি, এসডিসি এর ডেরেক মুলার এবং ইউনাইটেড নেশনস এর ক্রিস্টা রাডার।

ইআরডির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, সাধারণত এ গ্রুপটিই পুরো দাতাদের নেতৃত্ব দিয়ে থাকে। বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের বৈঠক নিয়ে এ প্রথম এক্সকম গ্রুপের সঙ্গে সভা করা হল। এ সভায় আলোচনার পর বিডিএফ বিষয়ে জোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ১৪ জুন অনুষ্ঠিত লোকাল কনসালটেটিভ গ্রুপের (এলসিজি) বৈঠক হয়। বৈঠকে দাতা সংস্থার স্থানীয় প্রতিনিধিদের কাছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিডিএফ বৈঠকের প্রস্তাব করা হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর দাতারা সম্মতিও দিয়েছিল।

দাতারা জানিয়েছিল, তারা কেন্দ্রীয় অফিসের সঙ্গে কথা বলে করে এ বৈঠক অনুষ্ঠান করার বিষয়ে ইআরডিকে শিগগিরই জানাবে। সে মোতাবেক ওই বছরের নভেম্বর অথবা গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বিডিএফ বৈঠক ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছিল ইআরডি। কিন্তু এরপর দাতারা আর কিছু জানায়নি।

প্রথমদিকে পদ্মা সেতু নিয়ে টানাপোড়েন ও পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জাতীয় নির্বাচনের কারণে এ বৈঠক পুরোপুরি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

ইআরডি সূত্র জানায়, বিডিএফ বৈঠকের প্রস্তুতি হিসেবে ইতোমধ্যেই বেশ কিছু কাজ শুরু করেছিল ইআরডি।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে—২০১৩ সালের ২৮ মার্চ এবং ১৪ জুন পরপর দুটি এলসিজি বৈঠক। যৌথ সহযোগিতা কৌশলপত্র (জেসিএস) বাস্তবায়নে এ্যাকশন প্ল্যান তৈরি। এইড পলিসি বিষয়ে একটি ওয়ার্কিং ব্রিফ তৈরি ও এর ওপর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈদেশিক সহায়তা ব্যবহারকারী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ১৮টি খাতে এলসিজির ওয়ার্কিং গ্রুপের কাজ চলছে। এ ক্ষেত্রে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ সমন্বয়ের কাজ করছে। বাংলাদেশের জন্য প্রথম ডেভেলপমেন্ট রেজাল্ট ফ্রেম ওয়ার্ক করা ইত্যাদি।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নির্দেশনা নিয়ে এজেন্ডা তৈরির কাজও শুরু করেছিল ইআরডি। পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে টানাপড়েনের কারণে এ কাজগুলো এক সময় স্থগিত হয়ে পড়েছিল বলে সূত্র জানায়।

ইআরডি’র দায়িত্বশীল উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা জানান, প্রতিবছর দাতাদের সঙ্গে বিডিএফ বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও গত চার বছর ধরে তা হচ্ছে না। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার বাস্তবায়ন, দাতাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন, পলিসিগত নানা বিষয় ও বৈদেশিক অর্থছাড় বাড়ানোসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিডিএফ বৈঠক হওয়াটা জরুরি।

সূত্র জানায়, সর্বশেষ গত ২০১০ সালের ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বিডিএফ’র বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে সাতটি খাতে ২৫টি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নে সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই বছরের ৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয় বিডিএফ মূল্যায়ন বৈঠক। এতে উপস্থাপিত অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী দেখা গেছে, ২০১০ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত কর্মপরিকল্পনার অগ্রগতি বিশ্লেষণে সবচেয়ে পিছিয়ে ছিল সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জ্বালানি খাত।

দাতাদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কর্মপরিকল্পনাগুলো নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে পারেনি মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো। বিডিএফ ও জাতীয় কৌশল, যৌথ সহায়তা কৌশল ও বিদেশী সহায়তার কার্যকরিতা, প্রাকৃতিক সম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবহন ও যোগাযোগ এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা অগ্রগতি ছিল ধীর।

তবে ওই মূল্যায়ণ বৈঠকে প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও আর কোনো মূল্যায়ন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে ২০১১ সালের ২ ও ৩ নভেম্বর বিডিএফ বৈঠকের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ করার পরও শেষ পর্যন্ত দাতাদের কারণেই এটি বাতিল হয়ে যায়।

কিন্তু বিশ্বব্যাংকসহ অন্যদাতারা মধ্যম সারির কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দিলে এ বৈঠক বাতিল হয়ে যায়। কেননা বিডিএফ হচ্ছে দাতাদের সঙ্গে সর্বোচ্চ বৈঠক। এতে দাতা সংস্থাগুলোর উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ না থাকলে উদ্দেশ্য পূরণ হয় না বলে মনে করে ইআরডি।

এএইচ