একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ে ভোটের ব্যবধান এতো বেশি হওয়ার কারণ খুঁজতে গবেষণা করে দেখা উচিত বলে জানিয়েছেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক।

আজ (১ জানুয়ারি) মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কার্যালয়ের কনফারেন্স হলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা জানান। এসময় তিনি নির্বাচন কেন্দ্রিক মানবাধিকার সংরক্ষণ নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

নির্বাচনে জয়-পরাজয়ে ভোটের ব্যবধান এত বেশি কেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, “এর কারণ আমি বলতে পারবো না, তবে এতো ভোটের ব্যবধান কেন হলো, এটা নিয়ে একটা গবেষণা হতে পারে। এটা গবেষণা করে দেখা উচিত।”

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সারা দেশ থেকে মোট ৫২টি অভিযোগ এসেছে। এই বিষয়ে কাজী রিয়াজুল হক বলেন, “বেশিরভাগ অভিযোগ ভয়ভীতি প্রদর্শন, ভোট না দিতে বাধা প্রদান, এ রকম আসছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনের সচিবকে বলা হয়েছে।”

দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু ও সহিংসতা কম হয় কিনা জানতে চাইলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, “কোনও মৃত্যুই কাম্য না। তবে ১৯৯১ সাল থেকে এ পর্যন্ত যত নির্বাচন হয়েছে সেগুলোর তুলনায় এবার সহিংসতার হার কম। তাই দলীয় সরকারের অধীনেও অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব।”

নির্বাচনি সহিংসতায় নাগরিকদের নিহতের ঘটনা গণমাধ্যমে কমিশন জানতে পেরেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যে মানুষগুলো সহিংসতায় মারা গেছেন, আমরা তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিবো। তারা এসব বিষয়ে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাও জানবো। আমরা কমিশনের পক্ষ থেকেও তদন্ত করবো।”

তিনি বলেন, “মানবাধিকার কমিশনের সদস্যদের একটি মিটিং হবে। এসব বিষয়ে কী কী করা যায়, আমরা তার সিদ্ধান্ত নেবো।”

রাজধানীর গুলশান, খিলগাঁও, বনানী ও বেইলি রোডের ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন চেয়ারম্যান রিয়াজুল হক। এসময় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের এজেন্ট কেন্দ্রে দেখেছেন কিনা? জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি কয়েকটি কেন্দ্রে তাদের এজেন্ট দেখেছি, কিছু কেন্দ্রে দেখিনি। গুলশানের একটি কেন্দ্রে আমি তাদের এজেন্ট পাইনি। তবে বনানী ও বেইলি রোডে তাদের এজেন্ট ছিল।”

সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয়গুলো কমিশনের নজরে আসছে কিনা? জানতে চাইলে কাজী রিয়াজুল হক বলেন, “আমরা বিষয়গুলো জানি। এভাবে হওয়ার কথা না। আমরা এসব বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখবো।”

এমবি