একটা সময় ছিল নড়াইলে দাপিয়ে বেড়াত নিরীহ নিশাচর প্রাণী সজারু। মাটির গর্তে বসবাসকারী কালো রঙের শরীরের এরা নড়াইলে এখন বিপন্ন হতে চলেছে। জলবায়ুর পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পারা এবং মানুষের কালো হাতের থাবা বিপন্নের অন্যতম কারণ।

ইঁদুর জাতীয় ধারালো দাঁতের সজারু হিস্ট্রিসিডে পরিবারভুক্ত প্রাণি। এক দশক আগেও নড়াইলে সর্বত্র এই প্রাণিটিকে দেখা যেত। এদের দেহের বহিরাবরণের পশমগুলো মোটা। এতে কয়েক স্তরবিশিষ্ট শক্তিশালী, ধারালো ও তীক্ষ্ণ ধরনের কাঁটা রয়েছে। দীর্ঘতম কাঁটাটি কাঁধের দিকে জন্মায় যা এদের দেহের এক-তৃতীয়াংশ হয়।

এদের লেজও ছোট কাঁটার আবরণে পূর্ণ যা আত্মরক্ষার্থে ব্যবহার করে ও বিচ্ছুরণ ঘটায়। এদের বিস্মৃত পা এবং লম্বা থাবা থাকে। এরা যখন আক্রমণের শিকার হয় তখন তার দেহস্থিত কাঁটাগুলো সক্রিয় হয় ও লেজ থেকে খসে গিয়ে শিকারের দিকে বিচ্ছুরিত করে শিকারিকে দূরে সরাতে বাধ্য করে।

যদি কোন কারণে এই বিষাক্ত কাঁটা শিকারির গায়ে বিদ্ধ হয়, তাহলে মৃত্যু কিংবা গুরুতর আহত হবার ঘটনা ঘটতে পারে। তৃণভোজী জীব হিসেবে এরা পাতা, ঘাস, ছোট ছোট গাছপালা ও ফলমূল, শস্য খেয়ে জীবনধারণ করে। এলাকাবাসী বলেন, সজারুরা আমাদের 'পড়শি'। এখনও টিকে থাকা সজারুগুলো আমাদের আশপাশে পাওয়া যায় ।পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে এদেরকে সুষ্ঠুভাবে বাঁচিয়ে রাখাতে হবে বলে মনে করেন সচেতন মানুষেরা।

উজ্জ্বল রায়/নাজিব