পুরান ঢাকার চকবাজারে পাঁচটি ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ৮১ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিখোজঁ রয়েছে আরো ১৫ জন।

আজ (২১ ফেব্রুয়ারি) বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন কথা জানান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান।  

এদিকে আজ দুপুর ১টার দিকেচকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্ধার অভিযান শেষ ঘোষণা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন। তিনি জানান, ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় হতাহতদের তথ্য জানার জন্য ৯৫৫৬০১৪ হটলাইন নম্বর চালু করেছে ডিএসসিসি।  

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান বলেন, ৪১ জন লোক আহত হয়েছে। তাদের আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমরা আগে বলেছিলাম ৭০ জন নিহত হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রাপ্ত বিভিন্ন খবরে বুঝা যাচ্ছে নিহতের সংখ্যা ৮০ বা ৮১ হতে পারে। তবে এখনো পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কারণ একটি ডেড বডির জায়গায় দু’তিন টি ডেড বডিও রাখা হয়েছে।

তবে এখনো যে কোন ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য ফায়ার সার্ভিসের অতিরিক্ত একটি টিম ঘটনাস্থলে কাজ করছে। এছাড়াও রেডক্রিসেন্ট, বয়েস্কাউট ও স্থানীয় জনগণকে কাজ করতে দেখা গেছে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমদ খান বলেন, স্থানীয় জনগণের সহযোগীতা ছাড়া এত বড় অগ্নিদূর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হতো না। ঘটনার পরপরই ফায়ায় সার্ভিস, স্থানীয় জনগণ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক, রেডক্রিসেন্ট, সর্বোপরি সাধারণ জনগণ উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে বলেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি দ্রুততার সাথে মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য।

মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, চকবাজারের আগুনের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালককে প্রধান করে গঠিত এই তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করলে প্রতিবেদন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কেমিক্যাল গোডাউন থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ার প্রসঙ্গ এনে মেয়র বলেন, আমরা সোমবার থেকেই পুরাণ ঢাকার আবাসিক এলাকা থেকে সব ধরনের কেমিক্যাল গোডাউন উচ্ছেদের জন্য অভিযান শুরু করেছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এখানে কোনোভাবেই কেমিক্যাল গোডাউন থাকতে দেয়া হবে না।

২০১০ সালে পুরান ঢাকার নিমতলীতে এমনই এক কেমিক্যাল কারখানায় আগুন লাগলে শতাধিক ব্যক্তি প্রাণ হারান। ওই সময় বলা হয়েছিল পুরান ঢাকায় কোনও কেমিক্যাল কারখানা বা গোডাউন থাকবে না, এসব গোডাউন ও কারখানা উচ্ছেদে অভিযান চলবে। এ অভিযান কতদিন চলবে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, আমরা অভিযান শুরু করেছি, অভিযান চলবে।

দুর্ঘটনা রোধে মেয়র হিসেবে ব্যর্থ কি না জানতে চাইলে সাঈদ খোকন বলেন, আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর থেকেই আমি এখানে উপস্থিত ছিলাম। সব ধরনের কার্যক্রম আমরা পরিচালনা করেছি। আর ব্যর্থতা-সফলতা জনগণ দেখবে, জনগণ মূল্যায়ন করবে।

মেয়র জানান, এখন পর্যন্ত দুর্ঘটনাস্থল থেকে ৭০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও ৪১ জন আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ৩০ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। যদিও ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ জানিয়েছেন, সেখানকার মর্গে এখন মোট ৮১টি মরদেহ রয়েছে।

বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার পর রাজধানীর চকবাজার এলাকার নন্দকুমার দত্ত সড়কের চুরিহাট্টা মসজিদ গলির রাজ্জাক ভবনে আগুন লাগে। রাত ১টা ৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে আগুন ভয়াবহ আকারে আশপাশের ৫টি বিল্ডিংয়ে ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের ৩২টি ইউনিট রাত ৩টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

আগুনে পুড়ে এখন পর্যন্ত ৮১ জন নিহত হয়েছে। এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পুড়ে যাওয়া লাশগুলো শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এখনো অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভিড় করেছেন স্বজনরা।

এমবি