গিয়াস কামাল চৌধুরী স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে গেছেন। গণমাধ্যম ও গণতন্ত্রের এই ঘোর দুর্দিনে গিয়াস কামাল চৌধুরীর মত সাংবাদিকের প্রয়োজন ছিল। সাহসের সঙ্গে সত্য ও বস্তুনিষ্ট সংবাদ পরিবেশন করে তিনি যে সুখ্যাতি ও জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন তা বাংলাদেশের আর কোন সাংবাদিক পায়নি।
ভবিষ্যতেও কেউ পাবে বলে মনে হয় না। ভয়েস অব আমেরিকার সাংবাদিক হিসেবে তিনি প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের অন্তরে স্থান করে নিয়েছিলেন। কন্ঠ সাংবাদিকতাকে জনপ্রিয় করে তিনি ব্যাক্তি থেকে প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছিলেন । মানুষের প্রতি তাঁর দরদ ছিল অপরিমেয়।
আজ বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন- বিএফইউজের সাবেক সভাপতি গিয়াস কামাল চৌধুরীর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএফইউজে ও ডিইউজে এ স্মরণ সভার আয়োজন করে।
বিএফইউজে’র সহসভাপতি মুন্সী আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সন্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক রুহুল আমিন গাজী।
বক্তব্য রাখেন বিএফইউজের মহাসচিব এম. আবদুল্লাহ, সাবেক মহাসচিব এম এ আজীজ, ডিইউজে’র সাবেক সভাপতি আবদুস শহীদ, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ বাকের হোসাইন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, বিএফইউজে’র সহকারি মহাসচিব মোদাব্বের হোসেন ও মো. শাহনওয়াজ, সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, দফতর সম্পাদক আবু ইউসুফ, ডিইউজে’র সহ-সভাপতি সৈয়দ আলী আসফার, প্রবাসী বিএনপি নেতা গাজী আবু বকর, সাংবাদিক নেতা কামার ফরিদ, এস এম আলমগীর, ডি.এম. আমিরুল ইসলাম অমর, বোরহান উদ্দিন, মীর হোসেন মিরণ, মাসুদুজ্জামান প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন ডিইউজে’র যুগ্ম সম্পাদক শাহীন হাসনাত ।
ডিইউজের সহসভাপতি খরশেদ আলম, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন বাদশা, সাংগঠনিক সম্পাদক মোরসালিন নোমানী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। মরহুম গিয়াস কামাল চৌধুরীর রুহের মাগফিরাত কামনা মোনাজাত পরিচালনা করেন মুহাম্মদ বাকের হোসাইন।
রুহুল আমিন গাজী তঁর বক্তব্যে বলেন, গিয়াস কামাল চৌধুরী বাংলাদেশের সাংবাদিকতাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি স্বৈরাচারি এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে ভয়েস অব আমেরিকায় সাহসিকতার সঙ্গে সংবাদ পরিবেশন করে দেখিয়ে গেছেন একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের কিভাবে কাজ করতে হয়। এখন স্বৈরশাসন ও ফ্যাসীবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে পারলেই গিয়াস কামাল চৌধুরীর প্রতি সন্মান জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, আজ কেউ সত্য কথা বলতে পারছে না। বললেই তাকে নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের কোনো মানুষ আজ নিরাপদে নেই। সাংবাদিকরা আজ নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে । অস্ত্র ও ক্ষমতার জোরে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
এম আবদুল্লাহ বলেন, গিয়াস কামাল চৌধুরী বাংলাদেশে কন্ঠ সাংবাদিকতাকে জনপ্রিয়তা শিখরে পৌঁছে দিতে পেরেছিলেন। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে মানুষ উন্মুখ হয়ে থাকতো তাঁর কন্ঠ শোনার জন্য। অসাধারণ মানবিক গুনাবলীর অধিকারি ছিলেন গিয়াস কামাল চৌধুরী।
তিনি মানুষের উপকার করার জন্য, অগনিত মানুষকে চাকরি দেয়া এবং সাহায্য করার জন্য নিরন্তর ছুটে বেড়াতেন। দলমত নির্বিশেষে তিনি এটা করতেন। রাজনীতির প্রতি তাঁর কোন মোহ বা উচ্চাভিলাস ছিল না।
১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়া তাকে নমিনেশন দেয়ার পরও এমপি হতে রাজি হননি। বহুমুখী প্রতিভা তাঁকে সর্বস্তরের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিতে পরিনত করেছিল। অভাবী ও দু:খ দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের জন্য তিনি ঝাপিয়ে পড়তেন। ক্ষুধার্তকে খাবার দিতে ব্যাকুল হয়ে পড়তেন।
এম এ আজিজ বলেন, গিয়াস কামাল চৌধুরীর মত সাংবাদিক আমরা আরেকজন খুঁজে পাবনা। তিনি সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃত্ব দিয়েছেণ দল মতের উর্ধে থেকে। এমন কিছু মানবিক গুণাবলী তাঁর মধ্যে ছিল যা সাধারনত দেখা যায় না।
আবদুস শহীদ বলেন, গিয়াস কামাল চৌধুরী সাদাকে সাদা কালোকে কালো বলতে দ্বিধা করতেন না। তিনি কোন স্বৈরশাসকের রক্তচক্ষুর কাছে মাথানত করেন নি। বৈরী পরিবেশেও অসাধারণ সাহসিকতায় সাংবাদিকতা করে গেছেন।
জাহাঙ্গীর আলম প্রধান বলেন, গিয়াস কামাল চৌধুরী আমাদের যা শিখিয়ে গেছেন দুর্ভাগ্যবশত আমরা তা চর্চা করতে পারছি না। তিনি সাংবাদিক ইউনিয়ন ও প্রেস ক্লাবের নেতৃত্বে থেকে দেখিয়ে গেছেন কিভাবে সাংবাদিকদের কল্যাণে কাজ করতে হয়।
মুহাম্মদ বাকের হোসাইন বলেন, গিয়াস কামাল চৌধুরী বাংলাদেশের সাংবাদিকতার আকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে আছেন। সাংবাদিকতা পেশাকে তিনি মহিমান্বিত করেছেন। সারা দেশে তিনি যে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন তা বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে আর কেউ পায়নি। পাবে ও না।
আজ সাংবাদিক ইউনিয়ন যথাযথ ভ’মিকা পালন করতে পারছে কিনা সে ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করার মধ্যেই সাংবাদিকদের নেতা হওয়ার স্বার্থকতা।
এআই





