সারা দেশে শনিবার মধ্যরাত থেকে ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ বা বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আজ থেকে ২২ দিন এ নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। একই সঙ্গে, প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ মাছ সংরক্ষণের জন্য এই ২২ দিন মাছ ধরা ও বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি কার্যকর করতে নৌ-পুলিশও বদ্ধপরিকর।
নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ১৯৫০ সালের মাছ রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন (প্রটেকশন অ্যান্ড কনজারভেশন ফিশ অ্যাক্ট, ১৯৫০) অনুযায়ী, এ বছর ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম ১ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন (১৬ আশ্বিন থেকে ৭ কার্তিক) সারা দেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ বা বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হলো।
নিষিদ্ধের সময় গত বছর ৭ দিন বাড়িয়ে ২২ দিন করা হয়। এর আগে এ সময় ছিল ১৫ দিন। ২০১৫ সালের আগে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধের সময় ছিল ১১ দিন।
কেউ এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তাকে কমপক্ষে এক বছর থেকে সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
একজন কর্মকর্তা জানান, চন্দ্র মাসের ভিত্তিতে প্রধান প্রজনন মৌসুম ধরে এ বছর আশ্বিন মাসের চাঁদের প্রথম পূর্ণিমার দিন এবং এর আগে ৪ ও পরের ১৭ দিনসহ ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে। এবার ৫ অক্টোবর প্রথম পূর্ণিমা।
এদিকে বুধবার রাজধানীর পাইকপাড়ায় নৌ-পুলিশের সদর দপ্তরে নদী এলাকায় পুলিশের গৃহীত ব্যবস্থা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নৌ-পুলিশের প্রধান ডিআইজি শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই ২২ দিন ইলিশ ধরা ও বিক্রি বন্ধ করতে জনসচেতনতা বাড়াতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সভা, সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ইলিশ প্রজনন মৌসুমে দেশব্যাপী ইলিশ আহরণ, বিপণন, ক্রয়-বিক্রয়, মজুদ ও বিনিয়ম নিষিদ্ধসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবে নৌপুলিশ।
এর পাশাপাশি স্থানীয় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সহযোগিতা করবে নৌ-পুলিশ। এই অভিযান রাতেও পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ছে। অবৈধ পথে ইলিশ পাচাররোধেও নৌ-পুলিশের টহল জোরদার থাকবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
এমবি





