যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার এসআই নুরে আলমকে অবশেষে জেলার পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে বলে বিশেষ একটি সুত্র জানিয়েছে। উল্লেখ্য এ কর্মকর্তা দীর্ঘ পাঁচ বছর বেনাপোল পোর্ট থানায় কর্মরত থাকা অবস্থায় নানা অপারাধের সাথে জড়িয়ে থাকার অভিযোগ ছিল।

সম্প্রতি মঙ্গলবার তিন ভারতীয় পাসপোর্টধারী যাত্রীকে আটক করে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এসআই নূরে আলম। দাবীকৃত টাকা না দিলে তাদেরকে ইয়াবা দিয়ে চালান দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। এক পর্যায়ে যাত্রীরা নুরে আলমের কাছ থেকে রক্ষা পেতে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা দেন। ছাড়া পাওয়ার পর ঐই তিন ভারতীয় নাগরিক বিষয়টি লিখিতভাবে যশোর পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দেন এবং বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনারকেও বিষয়টি লিখিতভাবে অভিযোগ করেন।

যশোর পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা মেলায় বৃহস্পতিবার রাতে নুরে আলমকে বেনাপোল পোর্ট থানা থেকে জেলার পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয় ।

নুরে আলমকে ক্লোজের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে চাপা থাকলেও শুক্রবার রাতে তা পোর্ট থানা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। নূরে আলম ক্লোজ হওয়ায় স্থানীয়রা একে অন্যকে মিষ্টিমুখ করিয়ে আনন্দ প্রকাশ করে বলে জানা যায়।

আলী হোসেন কবির (পাসপোর্ট নম্বর জেড-৪০৩৭৮৪২) জানান, বুধবারে তাকেও বেনাপোল বাসস্ট্যান্ড থেকে আটক করা হয়। তাকেও পোর্ট থানায় নিয়ে ইয়াবা দিয়ে চালানের ভয় দেখিয়ে ৬০ হাজার টাকা আদায় করেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

২০১২ সালে বেনাপোল পোর্ট থানায় বদলী হয়ে আসা এসআই নুরে আলমের জীবনটাই যেন বদলে যায়। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায় নুর আলমের কোটিপতি হওয়ার বিভিন্ন রহস্য। বেনাপোল পোর্ট থানায় বদলী হয়ে আসার পর থেকে বেনাপোলের বিভিন্ন এলাকায় ঢুকে সাধারণ মানুষকে আটক করে কাউকে জঙ্গি, কাউকে ইয়াবা ব্যবসায়ী ও কাউকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় সে। এমনকি নিজেও বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়ে।

অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িয়ে রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান এসআই। যেমনিভাবে সে বেনাপোলে ১২ কাটা জমির উপরে আলিসান বাড়ি তৈরি করেছে। তেমনিভাবে তার নিজ এলাকায় বরিশালে রয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ। তার নামে-বেনামে ব্যাংকে রয়েছে কয়েক কোটি টাকা।

স্থানীয় বাজারের নিমল ঘোষের কাছ থেকে ৬০হাজার টাকা, পলাশ হোটেল মালিক জাহাঙ্গিরকে আটক করে ১ লাখ টাকা দাবি করেন সে। পরে তা বেনাপোল পৌরমেয়র আশরাফুলের হস্তক্ষেপে রক্ষা পায়। নাম না জানাতে ইচ্ছুক অনেকে জানান, বিভিন্ন সময়ে তাদেরকে থানায় ধরে নিয়ে কয়েক লাখ টাকা করে আদায় করেছে এসআই নুরে আলম।

থানা থেকে ছেড়ে দেওয়ার পর হুমকি দিতেন আমরা যেন বিষয়টি সাংবাদিকদের না বলি। আবার বলতো সাংবাদিকদের তথ্য দিলে তোদের আবার ধরে নিয়ে আসবো, না হলে রাস্তার ধরে ক্রসফায়ারে দিব।

অত্যাচারিত সাধারণ মানুষ এ কর্মকর্তার ভয়ে মুখ খুলতে সাহস না করলেও গতকাল নুর আলমের ক্লোজড এর সংবাদে বর্ডারে,কাগজপুকুর, ভবারবেড় ও চেকপোষ্ট এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করে তারা।

বিষয়টি নিয়ে যশোরের পুলিশ সহকারী সুপার তানভীর আহমেদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বপূর্ণ এই মুহুর্তে কিছু বলা যাবে না বিষয়টি তদন্ত করে বলতে হবে এবং তদন্ত চলছে
নাছির/জেড