রাজধানীর মিরপুরে পৃথক দুটি ঘটনায় চারজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রোববার রাত ১১টা ত্রিশ মিনিটে মিরপুর কাজিপাড়া বাইশ বাড়ি গলি থেকে অজ্ঞাতনামা ৩ জনের এবং মিরপুর ১০ নং ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সভাপতি ওয়াদুদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

আজ (সোমবার) দুপুর ১১টায় সাংবাদিকদের দেয়া সাক্ষাতকারে মিরপুর মডেল থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) সালাউদ্দিন খান বলেন, রোববার রাত ১১ টায় জানতে পারি মিরপুর কাজিপাড়ার বাইশ বাড়ি গোলিতে নাশকতা সৃষ্টিকারীদের ধরে গণধোলাই দিয়েছে জনতা। তারপর সেখানে গিয়ে গুলিবিদ্ধ এবং আঘাতের চিহ্নসহ তিনজনের লাশ পাওয়া যায়।

আর অপর একজন মিরপুর ১০ নং ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সভাপতি ওয়াদুদ। রোববার মিরপুর সনি সিনেমা হলের সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে আগুন দিয়ে পালানোর সময় তাকে আটক করা হয়। তাকে নিয়ে রাতে নাশকতাকারীদের ধরতে আভিযানে যাবার পথে মিরপুর টেকনিক্যাল মোড়ে ওভার ব্রিজের কাছে যেতেই একদল সন্ত্রাসী পুলিশের গাড়িকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়লে ওয়াদুদ গাড়ি থেকে নেমে পালানোর সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, প্রথম তিনজনকে আটককারীদের মধ্য থেকেই কেউ গুলি করতে পারে। কারণ সাধারণ মানুষদের কাছে বৈধ অস্ত্র থাকে। তবে এ হত্যকাণ্ডের ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে বলে তিনি জানান।

বাইশ বাড়ির নিহতরা নাশকতাকারী বলেও মন্তব্য করেন ওসি সালাউদ্দিন খান।  

কাজিপাড়া বাইশ বাড়ির প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, রোববার রাত ১১টার দিকে তিনজনকে ককটেলসহ আটক করে মারধর করে স্থানীয়রা। তারপর পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে তাদেরকে নিয়ে যায়।

নাম প্রকাশে আনিচ্ছুক একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, পুলিশ তিনজনকে আটক করে স্থানীয় যুবলীগ নেতা জাহিদের আফিসে নিয়ে যায়।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় ঘটনাস্থলে রক্তের দাগ লেগে আছে। বাইশ বাড়ি গলি থেকে উদ্ধার হওয়া তিনজনের শরীরে অসংখ্য গুলির চিহ্ন ও দাগ দেখা গেছে।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহত ৪ জনের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

চারজনের মধ্যে টেকনিক্যালে নিহত ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম আবদুল ওয়াজুদ। তার বাবার নাম আবদুল আলী। গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার সরকারখালীতে। তিনি ৯/৪ টোলারবাগ, মিরপুর-১ এলাকায় থাকতেন।

সোমবার সকালে আবদুল ওয়াজুদের মামা হারুনুর রশিদ মর্গে তার ভাগনের লাশ শনাক্ত করেন।

হারুনুর রশিদ জানান, আবদুল ওয়াজুদ ও তার বাবা ঝুট ব্যবসা করতেন। গতকাল রোববার রাতে বাসায় ফেরার সময় পুলিশ তাদের ধরে নিয়ে যায়। আবদুল ওয়াজুদ শ্রমিক দল নেতা ছিলেন। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে আবদুল ওয়াজুদ ছোট।

এআই/কেএইচ/জেআই