দেশের প্রায় কোটি নাগরিককে পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে লেমিনেটেড জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ভোটার হয়েও এসব নাগরিক গত কয়েক বছর ধরে কোনো ধরনের জাতীয় পরিচয়পত্র না পাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এছাড়া ওই সভায় প্রবাসে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের ভোটার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আর নারী বা পুরুষের পাশাপাশি হিজড়া পরিচয়েও ভোটার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। সভা শেষে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন স্থগিত হওয়ার বিষয়ে কমিশন সভায় কোনো আলোচনা হয়নি। তবে আদালতের রায়ের কপি পাওয়ার পর কমিশন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
ইসির সচিব বলেন, ‘২০১২ সালে যারা ভোটার হয়েছেন এবং যারা এখনও কোনো জাতীয় পরিচয়পত্র পাননি, সেসব নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়া হবে। আমরা আগামী পহেলা ফেব্রুয়ারি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
প্রবাসীদের ভোটার করার বিষয়ে ইসির সচিব বলেন, প্রবাসীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এটাকে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে একটি আন্তর্জাতিক সেমিনার করা হবে। সেমিনারে যেসব সুপারিশমালা আসবে তার ওপর ভিত্তি করে প্রবাসী ভোটার তালিকা নীতিমালা তৈরি হবে।
তিনি বলেন, সার্কভুক্ত ৮টি দেশের নির্বাচন কমিশনের সমন্বয়ে গঠিত ‘ফেমবোসা’ সম্মেলন সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে। তার প্রস্তুতি নিয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে। এছাড়া সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আছে। সেটাকে সামনে রেখে এনআইডি সার্ভারকে আরও অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে কিভাবে তথ্য সংবলিত করা যায়, সে ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে।
হিজড়া পরিচয়ে ভোটার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হিজড়াদের মধ্যে যে এতদিন পুরুষদের পোশাক পরে তাকে পুরুষ এবং যে মহিলাদের পোশাক পরে তাকে মহিলা হিসেবে ভোটার করা হয়েছে।
এখন থেকে তারা হিজড়া হিসেবে ভোটার হতে পারবেন। এজন্য যুগ্ম-সচিবকে (আইন) নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি এ সংক্রান্ত আইন ও বিধি সংশোধন করে কমিশন সভায় উপস্থাপন করবেন। পরে কমিশন সেটি দেখে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করবেন।
ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন প্রসঙ্গে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব বলেন, বুধবার মহামান্য হাইকোর্ট ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) মেয়র পদে উপনির্বাচন এবং ১৮টি ওয়ার্ড নির্বাচনে স্থগিত আদেশ দিয়েছেন।
এ নিয়ে নির্বাচন কমিশন বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং উনারা বলেছেন, মহামান্য হাইকোর্টে এ আদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের সব কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।
একই সঙ্গে বৃহস্পতিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ১৮টি ওয়ার্ডে মহামান্য হাইকোর্ট স্থগিত আদেশ দিয়েছেন। সেজন্য এগুলো একইভাবে পরবর্তী স্থগিত আদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত এ নির্বাচনের কার্যক্রমও বন্ধ থাকবে।
আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে ইসি কোনো আইনগত ব্যবস্থায় যাচ্ছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত বিস্তারিত আদেশ পাইনি।
আমরা মিডিয়া এবং উকিল নোটিশের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। আমরা যখন আদেশটি হাতে পাব, তখন কমিশনে এটি উপস্থাপন করব। কমিশন পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে।
নির্বাচনী জটিলতা দূর করতে স্থানীয় সরকার বিভাগের সঙ্গে ইসি যোগাযোগ করেনি- এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব বলেন, ইলেকশন কমিশন সাংবিধানিক দায়িত্ব হিসেবে সংসদ নির্বাচন নিজেরাই পরিচালনা করে থাকে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন তাদের (স্থানীয় সরকার বিভাগের) অনুরোধেই করা হয়।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ই কিন্তু নির্ধারণ করে দেবে- নির্বাচন কোনটা করব, কোনটা করব না। সেক্ষেত্রে আমরা অনুরোধ পাওয়ার পরে এ নির্বাচনের কাজে হাত দিয়েছিলাম।
নির্বাচন কমিশন তফসিলও ঘোষণা করেছিল। মহামান্য হাইকোর্ট কোন বিষয়ের ওপর স্থগিত আদেশ দিয়েছেন, আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত আমরা বুঝতে পারব না।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনুরোধপত্র পাওয়ার পরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো যোগাযোগ হয়নি। আমরা ধারণা করি যে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় যখন আমাদের কাছে অনুরোধপত্র পাঠায়, স্বাভাবিকভাবে আইনগুলো খতিয়ে দেখে পাঠায়। ক্লিয়ারেন্স নিয়েই আমাদের চিঠি পাঠিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের কোনো গাফিলতি ছিল কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের গাফিলতির প্রশ্নই ওঠে না। আমরা আদেশ পাওয়ার পর বুঝতে পারব কোন বিষয়ের ওপর আদালত আদেশ দিয়েছেন।
এমআর





