কাঠ ফাটা রোদ, ভ্যাপসা গরম আর দীর্ঘ যানজট-তিনে মিলে সীমাহীন দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন নগরবাসী।
প্রচণ্ডউত্তাপের কারণে নগরীর খেটে খাওয়া মানুষদের পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি।রিকশাচালক, ভ্যান চালক থেকে শুরু করে দিন মজুররা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। খোলা আকাশের নিচে অসহ্য রোদের তাপে তারা ঠিক মতো কাজ করতে পারছেন না।
অসহ্য গরমের সঙ্গে প্রতিদিনের যানজট নগরবাসীর ভোগান্তি যেন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিদিনই তীব্র যানজটে স্থবির হয়ে পড়ছে রাজধানী। ভিআইপিসড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি পর্যন্ত সব জায়গাতেই একই অবস্থা।
দিনের শুরু থেকে শেষ অবধি প্রতিটি সড়কে গাড়ি ও রিকশার দীর্ঘ সারি। সকাল-দুপুর-রাত সব সময়ই লাগাতার যানজটে পড়ে ছটফট করছেন যাত্রীরা।
এগরমকে কাঁঠাল পাকা গরম উল্লেখ করে অনেকে বলেন, যে গরম পড়েছে তাতে শুধুকাঁঠাল নয় নগরবাসীও যেন পেকে যাচ্ছে। পল্টন মোড়ে দাঁড়িয়ে যানজট নিয়ন্ত্রণ করছেন ট্রাফিক পুলিশ সেন্টু মিয়া।
তিনি বলেন, ‘ভাই গরমের কথা আরকী বলবো। পুরো শরীর ভিজে জামার কালারই (রং) পরিবর্তন হয়ে গেছে। তারপরও বাসাথেকে রাস্তায় ভাল আছি। কিছুটা হলেও বাতাস পাওয়া যাচ্ছে। বাসায় থাকা আরওমুশকিল। মাথার ওপরে ফ্যান ঘুরলেও ঘামে ভিজে যায় শরীর।’
নীলক্ষেতে একটি জুতার দোকানের কর্মচারী শফিকুল বলেন, গরম তো স্বল্প সময়ের ব্যাপার কিন্তু জ্যামের (যানজট) তো কোনো সীমা নেই। প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় আমার যানজটে কাটে।
শফিকুল বলেন, সকাল সাড়ে ৮টায় নতুন বাজার থেকে বাসে উঠলে নীলক্ষেত পৌঁছাতে সকাল সাড়ে ১০টা কখনও ১১টাও বেজে যায়। আবার রাতে বাসায় ফিরতে প্রায় একই সময় বাসে ব্যয় করতে হয়। প্রতিদিন যদি ৫ ঘণ্টা সময় যানজটে কাটে তাহলে মাসে প্রায় একশ’ ৫০ ঘণ্টা সময় আসা যাওয়ায় রাস্তায় কাটে।
অসহনীয় এ আবহাওয়ার কারণে মানুষের রোগবালাইও বাড়ছে। শরীরের ঘাম শরীরেই শুকিয়ে যাওয়ায় অনেকের দেখা দিচ্ছে নানান রোগ। কেবল শিশুরা নয়, বড়রাও রেহাই পাচ্ছেন না।

রাজধানীর রাস্তায় ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন জায়গায় শরবত, ডাব ইত্যাদির দোকান বা ভ্যানের সামনে ক্লান্ত মানুষের প্রচণ্ড ভীড়। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে ফুটপাত থেকে তরমুজ, লেবুর শরবত ইত্যাদি দিয়ে তৃষ্ণা মিটাতে দেখা গেছে অনেককে।
এ প্রতিকূল আবহাওয়ায় সতর্কতার সঙ্গে নিয়ম মেনেখাওয়া দাওয়া করতে পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। গরমে রোগবালাই থেকে বাঁচতে রাস্তার পাশে খোলা খাবার এবং অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি খাওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
ওএফ





