যারা খাদ্যে ভেজাল দেয়, তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
সোমবার বিকেলে গণপূর্ত ভবনের সম্মেলন কক্ষে ভেজালবিরোধী আন্দোলন আয়োজিত ‘ভেজাল প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে করণীয়’শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, "ভেজালবিরোধী আন্দোলনকে সামাজিক আন্দোলন হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শুধু আইন করে নয়, যারা খাদ্যে ভেজাল দেয় তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।"
সমাজ সচেতন না করতে পারলে, আইন করে কিছু করা যাবে না মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, "ভেজালের কারণে নতুন প্রজন্ম বিভিন্ন রোগ বালাইতে আক্রান্ত হচ্ছে, মেধাশূন্য হয়ে পড়ছে। তাই ভেজালকারীদের প্রতিরোধ করতে হবে। সমাজ সচেতন না করতে পারলে,আইন করে কিছু করা যাবে না।"
যারা ভেজাল মেশায় তাদেরকে চোর বলার পরামর্শ দিয়ে তিনি আরো বলেন, "আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন যারা ভেজাল মেশাত তাদেরকে চোর বলতাম। আমি মনে করি যারা এখনো এ কাজ করছে তাদের চোর বলা উচিৎ।"
খাদ্যে ভেজাল ও অন্যান্য জিনিসে ভেজাল প্রতিরোধে সরকার বিধান করেছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "যারা ভেজাল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত তাদের জন্য আমরা ২০ লাখ টাকা জরিমানা ও সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারা দণ্ডের বিধান করা হয়েছে। আইন হচ্ছে, প্রয়োগ হচ্ছে তাতেও আমরা থামাতে পারছি না। তাই আমরা যদি সামাজিকভাবে এ কাজটি করতে না পারি তাহলে আমরা হেরে যাব।"
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তিনি বলেন, "গত ঈদে ঢাকার প্রবেশদ্বারে প্রতিটি ফল-মূলের ট্রাকে ভেজালবিরোধী অভিযান চালানো হয়েছিল। এ সময় ৮০ ভাগ ফলমূলই ভেজাল ছিল। অভিযানের শেষে এসে দেখা গেছে ১০ ভাগ ফলমূলের কেমিক্যাল মিশ্রিত ছিল। তখন সামাজিক ভাবে এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে আমরা এ প্রচারণা চালাতে পেরেছি বলেই এ সফলতা পেয়েছি। কিন্তু এ চক্র থেমে নেই। তাই এদেরকে থামাতে হলে সামজিকভাবে মোকাবেলা করা ছাড়া বিকল্প কোন পথ দেখছি না। সবাইকে ভেজালবিরোধী অভিযানে স্ব-স্ব অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে।"
খাদ্যে ভেজালের কারণে আজ প্রতিটি পরিবারে ক্যান্সার রুগী আছে দাবি করে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কামাল বলেন, "আমাদের হাসপাতগুলোতে খবর নিলে দেখা যাবে, আগের তুলনায় কয়েকগুণ ক্যান্সার রুগী বেড়ে গেছে। কেন হচ্ছে? খাদ্যে ভেজালের কারণে এমন মারাক্তক রোগ হচ্ছে।"
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উপদেষ্টা ডা: শেখ হাবিবুর রহমান। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও এশিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হারুন অর রশিদ, জজ ভুঁইয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়জুর রহমান ভুঁইয়া জুয়েল, ঢাকা সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-২ এর উপ সচিব শাহনেওয়াজ দিলরুবা খান, ভেজাল বিরোধী আন্দোলনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম চৌধুরী, সওজের সাবেক প্রোকৌশলী আব্দুল কুদ্দুস, দুদকের সাবেক পরিচালক মোজাম্মেল হুসাইন খান ও ভেজাল বিরোধী আন্দোলনের উপদেষ্টা আনিস উল মাওলা আরজু প্রমুখ।
জেইউ/জেডআই





