কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্ত এলাকায় পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী খালের ইজারাদাররা সীমানা অতিক্রম করে অবৈধ বালি উত্তোলনের মহোৎসব চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীরা জানান, এসব চিহ্নিত বালি ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে আর এতে সরকার দলীয় আওয়ামীলীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা ভাগ বাটোয়ারার মাধ্যমে এ বালি বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।
নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত তেলখোলা, বটতলী বাজার, থেকে থাইংখালী পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার খালের প্রায় ১৬ টি পয়েন্টে ডিজেল চালিত মেশিনের সাহায্যে নির্বিচারে অবৈধ বালি উত্তলনের ফলে খাল সংলগ্ন প্রায় ২ শতাধিক একরের মতো ফসলী জমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
অবৈধ বালি উত্তোলনের স্পট গুলো ঘুরে দেখা যায়, স্থানীয় তাজনিমারখোলা নামক এলাকার প্রভাবশালী ১৫ জনের বৃহত্তর সিন্ডিকেট তৈরি করে ডিজেল চালিত মেশিনের সাহায্যে এ অবৈধ বালু প্রতিদিন উত্তোলন করছে। থাইংখালী খাল থেকে তেলখোলা বটতলী পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার খালের ১৬ টি পয়েন্টে দৈনিক দেড় হাজারেরও অধিক পরিমাণ ডাম্পার ভর্তি বালি উত্তোলন করে।
আর এসব বালি প্রতি গাড়ী ১৭ শত টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের সরকারী ইজারা ডাকের সীমানা অতিক্রম করে অবৈধ বালি বিক্রির টাকার একটি অংশ স্থানীয় বন বিট কর্মকর্তা উখিয়ার ঘাট বিট কর্মকর্তা মোবারক আলী, বালুখালী হাইওয়ে পুলিশের ক্যাশিয়ার বারেক, ও স্থানীয় কথিত এক জনপ্রতিনিধিসহ ভাগ বাটোয়ারা করে নেওয়ার কারনে এলাকার কোন ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলতে সাহস পাচ্ছেনা।
আর সরকার এ অবৈধ বালি উত্তোল ও বালি বানিজ্যের খাত থেকে প্রায় কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার বলে স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য মানিক চাকমা বলেন, এলাকার অবৈধ বালি ব্যবসায়ীদের অবাদে বালি উত্তোলনের ফলে দীর্ঘ ৮ মাস ধরে উক্ত সড়ক দিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। শুধু তাই নয়, বর্তমানে উক্ত অবৈধ বালি কেখোদের তান্ডবের কারনে এলাকার প্রায় ৮ শতাধিক পরিবারের বসত ভিটা হারানোর উপক্রম দেখা দেওয়ার পাশপাশি শত শত একর ফসলী জমি বিলীন হয়ে এলাকার সাধারন মানুষ ভুমিহীন হয়ে পড়ছে বলে জানান ইউপি সদস্য মানিক চাকমা।
আর এতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোন প্রকার নজরদারি নেই বলে জানান এলাকাবাসীরা। অভিযুক্ত মোররক আলীর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুর উদ্দিন মোঃ শিবলী নোমান বলেন, অবৈধ বালি উত্তোলনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে, খতিয়ে দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএ





