ঈদ উল ফিতরের নামাজ আদায়ের জন্য সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। একই সঙ্গে জোরদার করা হয়েছে ঈদগাহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। র্যাব, পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সাহসি এবং সশস্ত্র সদস্যরা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছেন।
জাতীয় ঈদগাহের বিশাল জামায়াতের ইমামতি করবেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা সালাহ উদ্দিন। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও নামাজ পড়বেন রাষ্ট্রপতি, বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, ও কূটনীতিক ব্যক্তিবর্গসহ প্রায় ১ লাখ মানুষ। একই সঙ্গে ৬/৭ হাজার মহিলার নামাজের পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে ।
জাতীয় ঈদগাহের সার্বিক বিষয়গুলো দেখাশুনা দায়িত্বে রয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। আর সিটি করপোরেশনের প্রধান সমাজ কল্যাণ কর্মকর্তা কন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম।
তিনি বলেন,প্রায় ২ লাখ ৫৯ হাজার বর্গফুট আয়তন বিশিষ্ট জাতীয় ঈদগাহ স্থানে প্যান্ডেল তৈরি এবং নামাজের সুব্যবস্থার কাজে ৮০জন শ্রমিক নিয়োজিত। তারা গত ৪জুলাই (৫ রমজান) থেকে এ কাজে নিয়োজিত রযেছেন। ঈদগাহ ময়দান পরিপাটি ও সৌন্দর্য বর্ধন, ঈদগাহ মাঠ সাজানো ও নামাজের সুব্যবস্থার দায়িত্বে আছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স পিয়ার সর্দার অ্যান্ড সন্স ডেকোরেটর। এ ঠিকাদারকে বিল দিতে হবে প্রায় ৫৭ লাখ টাকা।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মো. মোজাম্মেল হক বলেন,‘প্রতিবছরের ন্যায় এবারও আমরা ঈদগাহ প্রস্তুতির কাজ পেয়েছি। গত ৯ বছর ধরে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্যান্ডেলের কাজ করে আসছি।
তিনি বলেন, ‘সম্পূর্ণ মাঠে বাঁশ দিয়ে প্যান্ডেল তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন উপর দিয়ে ত্রিপল টাঙ্গানোর কাজ শুরু হয়েছে। বৃষ্টিতে যাতে সমস্যা না হয়, সেজন্য উপরে মোটা ত্রিপলের ছাউনি দেয়া হচ্ছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য রাখা হয়েছে ড্রেনেজ ব্যবস্থা।
এ ছাড়া সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য মাঠের বাইরের অংশে নতুন করে চুনকাম করা হয়েছে এবং মাঠের চারপাশের লোহার তৈরি বেড়াকে বড় করা হয়েছে।
২৮ রমজানের মধ্যে ঈদগাহ পুরোপুরি কাজ শেষ করার টার্গেট রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঈদগাহ ময়দানকে সুসজ্জিত করতে ইতোমধ্যে ৪০ হাজারের বেশি বাঁশ দিয়ে প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে।
জানা গেছে, জাতীয় ঈদগাহে মুসল্লিদের সুবিধার্থে ৪৭০টি সিলিং ফ্যান ও ৪৬৪টি বাতি লাগানো হচ্ছে। ঈদগাহ মাঠের পূর্বপাশে থাকবে পানি ও অজুখানার ব্যবস্থা। অজুখানায় এক সঙ্গে ১৬০ পুরুষ মুসল্লি অজু করতে পারবেন। একই সঙ্গে ভিআইপি মুসল্লিদের জন্য একটি টয়লেটের ব্যবস্থা রয়েছে।
জাতীয় ঈদগাহে নারীদের ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য পর্দা দিয়ে আলাদা ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আলাদা ব্যবস্থা থাকছে কূটনৈতিক মিশনের সদস্য ও তাদের স্ত্রীদের জন্য।
এছাড়া ঈদগাহ ময়দানজুড়ে সার্বিক নিরাপত্তা বলায় গড়ে তুলবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ জন্য ইতোমধ্যেই ঈদগাহ মাঠের চারপাশে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসানো হয়েছে, যা দিয়ে সারাক্ষণ পর্যবেক্ষণ করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
নিরাপত্তার বিষয়ে রমনা জোনের ডিসি মারুফ হাসান জানান, ঈদগাহ মাঠকে কেন্দ্র করে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকবে। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হবে, যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা ঘটার আগেই জানা যায় এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
ঢাকা, একে, ২৬ জুলাই, টাইমনিউজবিডি.কম, জেএ





