কক্সবাজারের কুতুবদিয়া দ্বীপের দেড় লাখ লোকের চিকিৎসা সেবায় রয়েছেন মাত্র একজন চিকিৎসক। অথচ দ্বীপের একমাত্র সরকারি হাসপাতালটিতে (উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র) ২৭ জন চিকিৎসকের পদ রয়েছে। দ্বীপের হাসপাতালটিতে ৫ জন সুইপারের মধ্যে মাত্র ১ জন এবং ১২ জন নার্সের মধ্যেও রয়েছেন মাত্র ১ জন।
চিকিৎসক সংকটের মুখে রোগিদের চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে দ্বীপের ৩ জন মেডিকেল এসিসটেন্ট (উপ সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার)গনের নিকট।
হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে, কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হবার পর হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে ২৭ জন চিকিৎসকের পদ সৃষ্টি করা হয়। তবে পদ থাকলেও এ পর্যন্ত এক সাথে ৫ জন চিকিৎসকের বেশী কোন কালেই হাসপতালটিতে ছিলেন না। এতদিন ধরে ২ জন চিকিৎসক ছিলেন হাসপাতালে। কিন্তু দুই সপ্তাহ আগে একজন চিকিৎসক উচ্চতর ট্রেনিংয়ে যাবার পর বর্তমানে হাসপাতালে আছেন মাত্র রেজাউল হাসান নামের একজন চিকিৎসক।
প্রতিদিন কুতুবদিয়া দ্বীপের ৬ টি ইউনিয়ন থেকে দেড়শ থেকে দুশ রোগি চিকিৎসার জন্য আসেন হাসপাতালে। মাত্র ১ জন চিকিৎসকের পক্ষে এত বিপুল সংখ্যক রোগির চিকিৎসা সেবা দিতে হিমসিম খেতে হয়।
এমন পরিস্থিতির বিবরণ দিতে গিয়ে কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (ইউ,এইচ,ও) ডাঃ মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন কালের কন্ঠকে জানান-‘সাগরদ্বীপ কুতুবদিয়ায় কেউ আসতে চান না। তাই গত এপ্রিলে লিপিকা রাণী পাল ও শুকতারা হক নামের ২ জন নার্সের পোষ্টিং হলেও তদবিরের মাধ্যমে তারা দ্বীপে আসেননি। তদবিরে যেখানে নার্স যোগদান থেকে বিরত থাকেন সেখানে চিকিৎসক কি করবেন এবার বুঝুন।
আর এসব কারনেই আমার মত ৬০ বছরের একজন চিকিৎসককেও এখানে রাতে ডিউটি করতে হয়।’ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আরও বলেন, দেশের অন্যান্য উপজেলার তুলনায় মূল ভুখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হবার কারনে কুতুবদিয়া উপজেলা হাসপাতালে রোগীর ভীড় বেশী। তার কারন হচ্ছে, জেলা সদর বা অন্য কোথাও চিকিৎসা সেবা নিতে যেমনি ব্যয় তেমনি কষ্টসাধ্যও।
এ প্রসঙ্গে কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডাঃ মুখলেসুর রহমান বলেন-‘কুতুবদিয়া দ্বীপের চিকিৎসক এবং নার্সের সংকট রয়েছে এটা সত্যি। দ্বীপের বাসিন্দাদের চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য আগামী মাসের মধ্যেই কয়েকজন চিকিৎসক এবং ৪ জন নার্স সেখানে পাঠানো হবে।’
ঢাকা, ১৬ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই





