টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, মন্ত্রণালয়ের একাংশ, ইউজিসির একাংশ, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অবৈধ লেনদেনের সাথে জড়িত।
সোমবার রাজধানীর মহাখালি ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়‘ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট। বিধিমালা না থাকায় বর্তমানে সার্টিফিকেট নির্ভর হয়ে পড়ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অনেক ব্যবসায়ী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা হিসেবে রয়েছেন। যারা এটাকে মুনাফা অর্জনের খাত/পাথেয় হিসেবে নিয়েছেন।
টিআইবি’র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি স্তরেই ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি রয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও পরিচালনা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ধরনের লেনদেন হয়। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ৩শ’ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জনপ্রতি ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে সনদ দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে সামগ্রিকভাবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব ক্ষেত্রে লেনদেন হয় সেগুলোর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুমোদনের জন্য ১ কোটি থেকে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত অবৈধ লেনদেন হয়ে থাকে।
এছাড়া ভিসি, প্রোভিসি, ট্রেজারার নিয়োগের অনুমোদনের জন্য ৫০ লাখ থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত, বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিদর্শনের জন্য ৫০ থেকে ১ লাখ টাকা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে যেকোনো অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা, অনুষদ অনুমোদনের জন্য ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকা, বিভাগ অনুমোদনের জন্য ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা, ভুয়া সার্টিফিকেটের জন্য ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা, টাকা দিয়ে অডিট করা হয় ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং অ্যাসাইন্টম্যান্ট বাবদ ৫শ’ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অনুষ্ঠানে গবেষণা প্রতিবেদন পাঠ করেন টিআইবির রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি বিভাগের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানাজার নীনা শামসুন নাহার ও পরিচালক মোহাম্মদ রফিক হাসান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনটির উপ-নির্বাহী পরিচালক ড. সুমাইয়া খায়ের।
ঢাকা, জেইউ, ৩০ জুন(টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএইচ





