চলন্ত ট্রেনে ওঠার মরিয়া চেষ্টা, ছাদ বোঝাই যাত্রী
আজ সকালে সরজমিনে কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ট্রেন ছাড়ার নির্ধারিত সময়ের অন্তত আধা ঘণ্টা আগেই বুড়িমারী এক্সপ্রেসের ছাদ যাত্রীতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। কেউ নিজের ব্যাগটি শক্ত করে ধরে ছাদের ওপর বসে আছেন, আবার কাউকে দেখা গেছে ছাদের কিনারায় বিপজ্জনকভাবে পা ঝুলিয়ে বসে থাকতে। শুধু ছাদই নয়, বগির হাতল ও গেটে ঝুলে ছিলেন অসংখ্য মানুষ। এমনকি ট্রেনটি যখন স্টেশন ছাড়ছিল, তখনও অনেককে দৌড়ে এসে চলন্ত ট্রেনের গেট ধরে ওঠার মরিয়া চেষ্টা করতে দেখা যায়।
প্রশাসনের তৎপরতা সত্ত্বেও নিয়ন্ত্রণহীন পরিস্থিতি
অন্যান্য বারের চেয়ে এবার ট্রেনের ছাদে যাত্রী ওঠা ঠেকাতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। নিরাপত্তাকর্মীরা অনবরত বাঁশি বাজিয়ে এবং লাঠি উঁচিয়ে যাত্রীদের ছাদ থেকে নামানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন। তবে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কাছে শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয় এবং পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়নি। সকাল সাড়ে ৮টায় নির্ধারিত সময়েই বুড়িমারী এক্সপ্রেস কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে যায়।
যাত্রীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া: কেউ নিরুপায়, কেউ বলছেন অব্যবস্থাপনা
ট্রেনের ভেতরে প্রচণ্ড ভিড় এড়াতে অনেকেই স্বেচ্ছায় ছাদে চড়েছেন বলে জানান। রংপুরগামী যাত্রী সাইফুল বলেন:
"ভেতরে প্রচণ্ড ভিড় হবে ভেবেই আমি আগেভাগে ছাদে উঠে গেছি। পরে শুনলাম পেছনের কয়েকটি বগিতে কিছুটা জায়গা ছিল। কিন্তু তখন আর ছাদ থেকে নামার উপায় ছিল না।"
আরেক যাত্রী শওকত জানান তাঁর কষ্টের কথা, "ঈদের আগে ট্রেনের টিকিট পাওয়া যেন লটারি জেতার মতো কঠিন। এখন যেকোনোভাবে সুস্থ শরীরে বাড়ি পৌঁছাতে পারলেই হলো। ঝুঁকি আছে জানি, কিন্তু মা-বাবার সাথে ঈদ করার টান তো আর আটকে রাখা যায় না।"
তবে অনলাইনে যারা আগেভাগে টিকিট কাটতে পেরেছেন, তাদের অভিজ্ঞতা ছিল ভিন্ন। এসি বগির যাত্রী সাজ্জাদ বলেন, "আমরা অনলাইনে চেষ্টা করে টিকিট পেয়েছি। যারা একটু দেরিতে অ্যাপে ঢুকেছেন তারা হয়তো পাননি। তবে যারা এভাবে ছাদে উঠছেন, তাদের অনেকেই হয়তো টিকিট কাটার চেষ্টাই করেননি।"
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে হঠাৎ যাত্রীর চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। সাধারণ মানুষের চাহিদার তুলনায় ট্রেন ও বগির সংখ্যা সীমিত হওয়ায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে দুর্ঘটনা এড়াতে তারা বারবার যাত্রীদের ট্রেনের ছাদ, বাফার এবং গেটে বিপজ্জনকভাবে ভ্রমণ না করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
এমএম