এর আগে গত ২৭ মে মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন তামিলনাড়ু সরকার সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ লিভ পিটিশন (এসএলপি) দায়ের করে। সেই আবেদনের শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর হওয়া আপাতত স্থগিত রাখেন।

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে বলা হয়, দেশের প্রচলিত আইন নির্দিষ্ট শর্ত ও নির্দিষ্ট স্থানে নির্দিষ্ট শ্রেণির গবাদি পশু জবাইয়ের অনুমতি দেয়। তাই বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিচারিক নির্দেশ বহাল রাখা আইনগতভাবে সমর্থনযোগ্য নয়।

উল্লেখ্য, মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি জি আর স্বামীনাথন ও বিচারপতি ভি লক্ষ্মীনারায়ণনের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ ১৯৭৬ সালের একটি সরকারি আদেশের ভিত্তিতে রাজ্যজুড়ে গো-হত্যা নিষিদ্ধের নির্দেশ দিয়েছিল। ওই সরকারি আদেশের উদ্দেশ্য ছিল দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী করা।

রায়ে বিচারপতি স্বামীনাথন সংবিধানের ৪৮ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলেন, গরু, বাছুর এবং অন্যান্য দুধ উৎপাদনকারী গবা দিপশু জবাই রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া রাজ্যগুলোর দায়িত্ব। পাশাপাশি তিনি সংবিধান সভার বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ভারতীয় ঐতিহ্যে গরুকে দীর্ঘদিন ধরেই বিশেষ মর্যাদার প্রাণী হিসেবে দেখা হয়ে আসছে।

অন্যদিকে, বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এই নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে বলেন, কোরবানি ঈদের মতো বড় ধর্মীয় উৎসবে শুধু সরকারি অনুমোদিত কসাইখানায় পশু জবাইয়ের শর্ত বাস্তবসম্মত নয়। কারণ উৎসবের সময় বিপুলসংখ্যক পশু জবাইয়ের প্রয়োজন মেটানোর মতো সক্ষমতা অধিকাংশ লাইসেন্সপ্রাপ্ত কসাইখানার নেই।

তামিলনাড়ু সরকারও আদালতে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে জানায়, রাজ্যের ‘তামিলনাড়ু পশু সংরক্ষণ আইন’ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিধিমালায় পশু জবাইয়ের স্থান, পদ্ধতি ও শর্ত নির্ধারণ করা হলেও সেখানে সব ধরনের গরু জবাইয়ের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়নি।

সূত্র: এনডিটিভি

এস