নেত্রকোনায় চার মাসের শিশু রিজাকে নৃসংশভাবে হত্যার দায়ে আল-আমিন (২১) নামে এক যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দু’বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশও দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার বেলা ১১টায় নেত্রকোনার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আব্দুল হামিদ এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আল-আমিন পলাতক।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, নেত্রকোনা কেন্দুয়া উপজেলার মগড়াইল গ্রামের নাদু ফকিরের স্ত্রী পারভিন আক্তার একই গ্রামের কদ্দুছ মাস্টারের বাড়িতে গৃহপরিচারীকার কাজ করতেন। গৃহকর্তার ছেলে আল-আমিনের কুদৃষ্টি পড়ে গৃহপরিচারিকার ওপর। সে বিভিন্ন সময় তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। পারভিন রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হন আল-আমিন। এর জের ধরে ২০০৭ সালের ৯ মে দুপুরে পারভিনের চার মাসের শিশু কন্যা রিজাকে শিশুপুত্র সোবহালের কোল থেকে কেড়ে নিয়ে দুই পায়ের গোছা ধরে ঘরের খাটে বাড়ি মারে। সোবহালের কান্না ও পারভিন আক্তারের ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে ঘটনা শুনে আল-আমিনকে আটক করে। মুমূর্ষু রিজাকে কেন্দুয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে এলাকাবাসী আটক আল-আমিনকে পুলিশে সোপর্দ করে।
ওই দিনই নাদু ফকির বাদি হয়ে আল-আমিনকে একমাত্র আসামি করে কেন্দুয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে একই বছরের ২৭ জুন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। আল-আমিন জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।
বিচারক সাত জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অপরাধ সন্দেহাতিতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আল-আমিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থ দণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।
কেএইচ





