বাবার বাড়ি থেকে যৌতুকের টাকা এনে না দেওয়ায় নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর কলোনিপাড়া মহল্লায় মাহবুবা আখতার ওরফে ববি (২৩) নামে এক গৃহবধূর ওপর নির্যাতন চালিয়ে দুই পা ও হাতের আঙ্গুল থেতলে দিয়েছে স্বামী ও স্বামীর পরিবারের লোকজন।
মুমূর্ষু অবস্থায় নির্যাতিত গৃহবধূ পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়ের হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, তিন বছর আগে জেলার মহাদেবপুর উপজেলার পৈশাতা গ্রামের বজলুর রশিদের মেয়ে মাহবুবা আখতার ববিকে মোটা অঙ্কের যৌতুকের বিনিময়ে বিয়ে করেন পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর কলোনিপাড়া মহল্লার ওসমান আলীর ছেলে ফল ব্যবসায়ী জালাল।
বিয়ের পর থেকেই ব্যবসার পরিসর বৃদ্ধির নাম করে ববির বাবার কাছ থেকে যৌতুকের অতিরিক্ত টাকা দাবি করে আসছিল জালাল। এ নিয়ে তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ দেখা দিলে পারিবারিকভাবে দুইপক্ষের লোকজন নিয়ে বেশ কয়েকবার বৈঠকও হয়। কিন্তু তাতে কোনো সমাধান হয়নি।
গৃহবধূ ববি জানান, কারণে-অকারণে প্রায়ই নির্যাতন চালাত জালাল। এমনকি ব্যবসায়ী অংশীদার ও পাওনাদারদের টাকা না দেওয়ার ফন্দি হিসেবে আমাকে দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করার ষড়যন্ত্র করে। এসব কাজের বিরুদ্ধাচারণ করলে আমার ওপর নেমে আসে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।
তিনি আরো জানান, বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ি ফিরে হঠাৎই ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরে বন্দি করে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে গোপনাঙ্গসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে ক্ষত বিক্ষত করে।
একই সঙ্গে দুই পা ও হাতের আঙ্গুলগুলো থেতলে দেয়। মারপিট শেষে একটি সিরিঞ্জে করে বিষাক্ত ওষুধ শরীরে ঢোকানোর চেষ্টা করলে চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসে জালালের হাত থেকে ববিকে রক্ষা করে।
প্রতিবেশী ফজলুর রহমান, মৌসুমী আকতার ও জয়নব বানুসহ বেশ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, ববিকে প্রায়ই মারপিট করতো জালাল।
সবশেষ বৃহস্পতিবার তাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যেই বিষাক্ত ইঞ্জেকশন দেওয়ার চেষ্টা করে সে। প্রতিবেশীরা ছুটে যাওয়ায় ববি প্রাণে রক্ষা পেয়েছে। জালাল পালিয়ে যাওয়ায় পর ববিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ জানান, মারপিটের কারণে ববির শরীরের গলা, বুক ও পিঠসহ বিভিন্ন স্থানে ফুলে গেছে। পা ও হাতের আঙ্গুলগুলো ফেটে গেছে। তাকে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এদিকে এ ঘটনায় গৃহবধূ নিজেই বাদী হয়ে রোববার পত্নীতলা থানায় স্বামীকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিমুদ্দীন জানান, থানায় মামলা দায়ের হবার পর থেকেই আসামিরা পালিয়ে আছে। তবে তাদের গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে।
এমকে





