সীমান্ত দিয়ে আলাদা হয়েছে মানচিত্র, তবে ঈদের আনন্দ নয়। ঈদ-পূজায় সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা ভুলে যান সীমান্ত রেখা। এদিন সীমান্তের বেড়াজালে ছেদ ঘটিয়ে তারা প্রবেশ করেন ভারতে। সিলেটের গোয়াইনঘাট এলাকার বিছনাকান্দি তেমনই একটি সীমান্ত।
সারা বছর যেখানে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) আর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কড়া প্রহরা সেখানে ঈদের দিন সীমান্ত সবার জন্য উন্মুক্ত। মানুষের এমন অবাধ যাতায়াত দেখে মনেই হবে না মানুষ এক দেশে থেকে আরেক দেশে যাচ্ছে।
এ বিষয়টি নিয়ে কথা হয় বিছানাকান্দি সীমান্তের তরুণ হোসাইনের সঙ্গে।সে জানায়, ঈদের সময় বিএসএফ ভারতে ঢুকতে কোনো বাধা দেয় না। পাসপোর্টও লাগেনা এ সময়। সারাদিন ঘুরে বিকেলে আবার ফিরে আসি। প্রতি ঈদেই এমনটি করি আমরা।
নজরুল ইসলাম ও হাসিবুল ইসলাম দু’ভাই। তাদের নানাবাড়ি ভারতে। সীমান্ত নানা বাড়ির সুখ কেড়ে নিয়েছে তবে ঈদের আনন্দ কেড়ে নিতে পারেনি। প্রতি ঈদেই তারা গোয়াইঘাট সীমান্ত পার হয়ে মেঘালয়ের শেষের অংশ জোয়াই পাশ্ববর্তী নানা বাড়িতে যান। প্রাণের টানে।
তারা বললেন, দু’বছর আগে একবার ঈদের বিকেলে বিএসএফের হাতে ধরা পড়ি। বিএসএফ আধঘণ্টা আটকে রেখে পরে ছেড়ে দেয়। ঈদ ছাড়া অন্যসময় হলে গুলি করতো।
তারা জানান, ঈদের দিন গুলির ভয় নেই অন্তত।সিলেটের সীমান্ত এলাকা গোয়াইঘাট, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার একাকার সীমান্ত বাসিন্দাদের অনেকের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, দেশ বিভাগের পরে স্বাধীনতার আগে পর্যন্ত সিলেটের সীমান্তে ভারত-বাংলাদেশের যোগাযোগ ছিল বেশ। তখন বিয়েবিধি হতো। সীমান্ত ততটা কড়া ছিল না। গত কয়েক দশক হলো সীমান্ত কড়া হয়েছে। গুলিও হয় এখন।
তবে তারা জানান, ঈদ-পূজায় সীমান্ত খোলা। যে কেউ নদী পার হন অথবা হেঁটে ভারত যান। তবে আগের চেয়ে এটা কমে এসেছে। এখন অনেকেই পাসপোট নিয়ে বৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে আত্মীয়য়ের বাড়িতে যান।
জকিগঞ্জের কেসরি গ্রামের মুন্না জানান, তারা মামারবাড়ি ভারতে। ছোটবেলায় পাসপোর্ট কি জিনিস তা জানতেন না। কারণ বিকেলে গেলে পরদিন অথবা সকালে গেলে বিকেল চলে আসতেন। শুধু নদী পার হলেই হলো।
তবে এখন পাসর্পোটের মাধ্যমেই আসা যাওয়া করেন তিনি। বিশেষ করে ঈদে ভারতের করিমগঞ্জে মামারবাড়িতে যাওয়া হয় তাদের। সীমান্ত বাসিন্দা ও বিজিবি সূত্র জানায়, ঈদ পূজায় সীমান্ত অঘোষিতভাবে একটু খোলে দেওয়া হয়।
জানা যায়, নিম্নবিত্তের সবার এসময় বিনা পাসপোর্ট আসা যাওয়া করেন। তবে সীমান্ত কড়া হওয়ায় মধ্য ও উচ্চবিত্তরা এখন পাসপোর্ট নিয়ে বেশি যাওয়া আসা করেন।
এছাড়া নতুন করে দুই সীমান্তের মধ্যে আর আত্মীয়তা হচ্ছে না বলে জানা গেছে। পুরতন সম্পর্ক সময়ের ব্যবধানে হারিয়ে যাচ্ছে। এখন আগের মতো সীমান্ত বাসিন্দাদের একে অপরের যোগাযোগ নেই। কয়েক যুগ পরে তা শূন্যের ঘরে নেমে আসবে-এমন তথ্যই মিললো সীমান্ত বাসিন্দাদের কাছে।
কেএ





