গত ২১ ডিসেম্বর রবিবার পে-কমিশন প্রস্তাবিত করা হয়। আর এ প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোতে নিম্ন বেতনভূক্ত কর্মচারীদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এই পে-কমিশনের সুপারিশমালা প্রত্যাখান করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সংযুক্ত ঐক্যফ্রন্ট।

সংগঠনটির কার্যকরী সভাপতি জনাব মোঃ শাহ্জাহান মিয়া স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রদান করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, এই পে-কমিশনে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের আনুপাতিক হারই তা প্রমাণিত হয়েছে।

এ ছাড়া সচিবালয়ের অভ্যন্তরে কর্মরত প্রধান সহকারী ও উচ্চমান সহকারী সমপদের কর্মচারীদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত করণসহ চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারীদের সিলেকশন গ্রেড প্রদান করা হয়েছে।

অথচ বাইরের এ সকল পদে কর্মরতদের পূর্বের বৈষম্যমূলক পদেই রাখা হয়েছে। ইহা ছাড়া সচিবালয়ের বাইরে চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারীদের সিলেকশন গ্রেড প্রদান না করে বড় ধরণের বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সচিবালয়ের সাথে সচিবালয়ের বাহিরের সকল অধিদপ্তর, দপ্তর, পরিদপ্তর, বিভাগ, জেলা, উপজেলাসহ মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীদের পদবী পরিবর্তণ ও বেতন বৈষম্য দূর করে পদবী ও বেতন স্কেল প্রদান।

মহান জাতীয় সংসদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী ১ জুলাই,২০১৪ হতে নতুন জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর করা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সরকারের দেয়া ১৯৭৩ সনের বেতন স্কেলের অনুরূপ বিদ্যমান ২০টি গ্রেডের পরিবর্তে ১০টি গ্রেডে রূপান্তর করে ১:৫ অনুপাতে বেতন স্কেল নির্ধারণ করা।

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তাদের ন্যয় প্রজাতন্ত্রের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর সকল কর্মচারীদের শতভাগ সিলেকশনগ্রেড প্রদান করতে হবে। উন্নয়ন খাত, কার্যভিত্তিক, মাস্টার রোলের কর্মচারীদের চাকরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করে যোগদানের তারিখ থেকে সরকারি সকল সুবিধাসহ এস.এস.সি পাসসহ সকল চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের তৃতীয় শ্রেণীতে পদোন্নতি দিতে হবে এবং আউটসের্সিং এর মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে।

১২ লক্ষাধিক সরকারী কর্মচারীদের উক্ত দাবীর প্রেক্ষিতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার অষ্টম জাতীয় বেতন ও সার্ভিসেস কমিশন গঠন করে। কমিশনের সম্মানিত চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ গত ১ বছর ধরে উল্লেখিত সংগঠন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সহিত দফায়-দফায় বৈঠক করেন।

এ বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের বিভিন্ন শ্রেণীর পেশাজীবী সংগঠনসহ বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের সাথে মত বিনিময় করেন। ইহা ছাড়াও ৭ টি বিভাগীয় শহরে পর্যায়ক্রমে সফর করে বিভিন্ন সভা ও মত বিনিময় করে একাধিক বার সাংবাদিকদের অবহিত করেন যে, ৬ সদস্য পরিবারের কথা চিন্তা করে, ২০০৯ সনের জাতীয় বেতন স্কেল এর ২০ টি ধাপ কমিয়ে একটি গ্রহনযোগ্য বেতন কমিশনের সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দিবেন। যা তিনি কর্মচারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে একাধিক বার আলোচনায় আশ্বস্ত করে ছিলেন।

কিন্তু সকল জলপনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত ২১/১২/২০১৪ ইং তারিখ মাননীয় অর্থ মন্ত্রীর কাছে ১৬ গ্রেডের যে পে-কমিশনের প্রস্তাব করেন তাতে ১২ লক্ষাধিক কর্মচারীদের প্রাণে কঠোরাঘাত করে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বৈষম্য মূলক সর্বনিম্ন ৮২০০/- টাকা সর্বোচ্চ ৮০ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছেন।

যা কোন বেবেকবান জাতী, গোষ্ঠী ও কোন সভ্য সমাজ মেনে নিতে পারেন না। ২০০৯ সনের ২০ টি গ্রেডের তারতম্য ছিল ৯.৭৬% বর্তমানে ১৬ টি গ্রেডের তারতম্য ৯.৭৬%।

যাতে দেখা যায় ৪ টি গ্রেড প্রত্যাহার করে একই বৈষম্য রাখা হয়েছে, যা অত্যান্ত হতাশাব্যঞ্জক। এখানে দেখা যায় যে, ১৬ গ্রেড হইতে ১০ম গ্রেড পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি ৪৮০০/- টাকা, অপর দিকে গ্রেড ১ হইতে গ্রেড ৯ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে ৬৩ হাজার টাকা, যে বৈষম্য পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ কলঙ্গজনক অধ্যায়।

যেখানে পে-কমিশনের মাননীয় চেয়ারম্যান বারংবার বলেছেন যে, এ বারের পে-কমিশনের ৪ সদস্যের পরিবারের বাহিরে মা-বাবাসহ ৬ সদস্যের পরিবারের হিসাব অনুযায়ী বেতন কাঠামো সুপারিশ করা হবে।

কিন্তু অতিব দুঃখ্যের সাথে লক্ষ করা যাচ্ছে সর্বনিম্ন যে বেতন স্কেল ধরা হয়েছে তা আগেকার ৪ সদস্য পরিবারের বরণ পোষণে কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। যেখানে কর্মচারীদের মা বাবা প্রতিপালন তো দূরের কথা উপেক্ষিত হবে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া এটাই কি পে-কমিশনের বাস্তবতা যা অত্যান্ত লজ্জাজনক ও একটি শুভংকরের ফাকি।

উল্লেখ্য যে, শোষণ ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযোদ্ধে সরকারী কর্মচারীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহনসহ জাতীয় প্রয়োজনে সর্বদা ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

এ দেশের শিশু ও মাতৃ-মৃত্যুর হার রোধসহ স্বাস্থ্য খাতে অভাবনীয় সাফল্য, সামাজিক নিরাপত্তা বলয় সুদৃঢ় করা, খাদ্য উৎপাদনে কৃষি বিভাগের ব্যাপক সাফল্য, নতুন কোন অবকাঠামো বা জনবল ছাড়াই লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীর পি.এস.সি ও জে.এস.সি পরীক্ষা সম্পন্ন করা, শিক্ষাখাতের সাফল্য এবং হত দরিদ্র উপকারভোগীদের দ্বারা নতুন নতুন বনায়নের মাধ্যমে বন সৃষ্টি করে দারিদ্র্য বিমোচন, যুব সমাজের উন্নয়ন, দেশে এবং বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির অসামান্য সাফল্যসহ দেশের উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে চালিকাশক্তি হিসাবে অনন্য ভূমিকায় রয়েছেন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা।

কিন্তু ১২ লক্ষাধিক কর্মচারীদের হতাশাগ্রস্থ ও দরিদ্রসীমার নিচে রেখে দেশ ও জাতি কখনও উন্নয়নের অগ্রযাত্রার সামিল হতে পারে না। বর্তমান প্রস্তাবিত জাতীয় পে-কমিশন বৈষম্য থেকে বৈষম্যতর করার মাধ্যমে এ দেশের ১২ লক্ষাধিক কর্মচারীর ও তাদের সাথে জড়িত কোটি জনতাকে সরকারের মুখোমুখি দাড় করিয়াছে, হতাশাগ্রস্থ ও ফেলেছে লজ্জা স্থানে, যা কখনও কাম্য হতে পারে না।

১২ লক্ষাধিক সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য দাবী বাস্তবায়নের মাধ্যমে সকল বৈষম্যের অবসান করে ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতঃ বাংলাদেশের সকল কর্মচারীদের কৃতজ্ঞতার পাশে আবদ্ধ করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এসএইচ