মেয়েদের বিয়ের বয়স বাড়ানো কমানো নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেছেন, সরকার এক বার বয়স কমানোর ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি করছে। আবার মন্ত্রী-আমলারা বয়স আগের মতোই থাকবে বলছেন। রাষ্ট্রের সাথে সরকারের এ ধরনের লুকোচুরি চলতে পারে না। তথ্যাধিকার আইন অনুযায়ী এ বিষয়ে সরকারের সকল সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রের সামনে তুলে ধরতে হবে।
সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি আয়োজিত ‘কন্যা শিশুর বিয়ের বয়স ১৮ বছর বহাল রাখাতে হবে' শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি আরো বলেন, ‘মেয়েদের বয়স কমানোর এ সিদ্ধান্ত আদালত কর্তৃক নিলেও এটা হবে অসাংবিধানিক। বয়স কমানো হলে এটা হবে রাষ্ট্রীয় অন্যান্য আইনের পরিপন্থী।"
সিডো চুক্তির উপর বাংলাদেশ প্রসঙ্গে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন একটি প্রতিবেদন তৈরি করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই প্রতিবেদনে আমরা বাংলাদেশ সম্পর্কে অনেক ইতিবাচক কথা উল্লেখ করেছি। কিন্তু আন্তর্জাতিক সকল চুক্তিকে সরকার বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যদি মেয়েদের বিয়ের বয়স কমিয়ে দেওয়া হয় তাহলে আমাদের প্রতিবেদনে আমূল পরিবর্তন ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। আমরা বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরতে চাই না।
তিনি বলেন, ‘গ্রামের পিতারা তাদের কন্যাসন্তানকে নিয়ে চরম নিরাপত্তায় ভোগে। তারা নিরাপত্তার স্বার্থে মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দিতে চায়। এই নিরাপত্তাহীনতার কারণ হচ্ছে দেশে আইনের শাসনের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি এবং কিছু মানুষের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় যা খুশি করার সুযোগ দেয়া। এক্ষেত্রে অনেক বাবা মেয়ের নিরাপত্তার স্বার্থে এ আইনকে সমর্থন করতে পারেন।'
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন উইমেন ফর উইমেন এর সাবেক সভাপতি সালমা খান, জাতীয় নারী জোটের আহবায়ক আফরোজা হক রীনা, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম ও স্টেপস টুওয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট-এর নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কর্মকার প্রমুখ।
এমএ/জেডআই





