ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। সংযোগ সড়কের নির্মাণ কাজও শেষ। শেষ মুহুর্তে চলছে ঝাড়ু-মুছার কাজ। সেতুটি চালুর জন্য সড়ক ও জনপথের (সওজ) প্রধান প্রকৌশলী বরাবর গত এক সাপ্তাহ আগেই চিঠি দিয়েছেন সেতুর প্রকল্প পরিচালক। উদ্বোধনের দিনক্ষণ নির্ধারণ করবে মন্ত্রণালয়। সেতুটি চালুর অপেক্ষায় স্থানীয় লোকজন। সেতুটি দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছেন এ রোডে যাতায়াতরত যান-জটে নাকাল হওয়া যাত্রীরা।
কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতুর প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁয়ের শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর প্রথম সেতুটি পুরোনো হওয়ার পরও এ সেতু দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচলের ফলে সেতুটির ওপর ও দুই পাশে সারা বছরই যানজটে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে মানুষ। তাই সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় জাপানি উন্নয়ন সংস্থা জাইকা ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে। ইতিমধ্যে এই সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজও শেষ হয়েছে। তারও আগে গত সপ্তাহে সেতুর কাজ শেষ হয়। শুধু সেতুর পূর্ব প্রান্তের কাঁচপুর বাসস্ট্যান্ডের পাশে উড়ালসেতুর কাজ এখনো চলছে।
সেতুর প্রকল্প পরিচালক আবু সালেহ মোহাম্মদ নুরুজ্জামান জানায়, কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতুটি ১০০ বছরের স্থায়িত্ব নির্ধারণ করে নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুটির ভিত্তি কংক্রিটের ঢালাইয়ের হলেও পাঁচটি পিলারের ওপর নির্মিত নতুন এই সেতুটি স্টিল গার্ডারের। চার লেনের নতুন এই সেতুর দৈর্ঘ্য ৩৯৭ দশমিক ৫ মিটার। প্রস্থ ১৮ দশমিক ৩ মিটার।
কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতু নির্মাণ প্রকল্পের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রাফিউল ইসলাম জানান, সেতুটির নির্মান কাজ যৌথভাবে জাপানি চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান করেছেন। ওবায়শি করপোরেশন, শিমিজু করপোরেশন, জেএফআই ও আইএইচআই। সেতুর উপঠিকাদার বাংলাদেশের মীর আকতার হোসেন। মূল সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণে ব্যয় হয় ১ হাজার ২১৫ কোটি টাকা। মোট ব্যয়ের ৭৫ ভাগের জোগান দেয় জাইকা। আর ২৫ ভাগ অর্থ ব্যয় হয় বাংলাদেশ সরকারের। এই নতুন সেতুটি উদ্বোধনের পর পুরোনো সেতুটির মেরামতকাজ শুরু হবে। তাই সেতুটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই উদ্বোধন করে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করে যানজট দূর করা হবে। আমরা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত সময়ের অপেক্ষায় আছি।
মনে করা হচ্ছে, নতুন সেতুটি উদ্বোধনের পর পুরোনো সেতুটির মেরামতকাজ শেষ হলে দুটি সেতু একসঙ্গে চালু থাকলে এবং উড়ালসেতুর কাজও শেষ হলে কাঁচপুর সেতুর এপার-ওপর, দুই পাশে কোনো যানজট থাকবে না। নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট পথে চলাচলরত সব ধরনের যানবাহন।
গতকাল সকালে উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতুর ওপর গিয়ে দেখা যায়, সব ধরনের নির্মাণকাজ শেষ। আনসার সদস্যসহ নিরাপত্তাকর্মীরা সেতুর ওপর পাহারা দিচ্ছেন।
শাহ জালাল/এসএম





