ব্রহ্মপুত্র, ধরলাসহ সবকটি নদ-নদীর পানি হ্রাস পেতে শুরু করায় কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। তবে ব্রহ্মপুত্রের পানি এখনো বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বসতভিটা থেকে পানি ধীরগতিতে নামায় দুর্ভোগ কমেনি বানভাসিদের। গবাদিপশু নিয়ে বাঁধে ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়া মানুষজন এখনো ঘরে ফিরতে পারেননি। বন্যাকবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। ছড়িয়ে পড়ছে পানিবাহিত রোগ।
জেলার উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের চরবাগুয়ার মজিদ বলেন, ‘১০-১২ দিন ধরে পানির উপর ভাসতেছি। কোনো সাহায্য পাই নাই। ধারদেনা করে চলতেছি। একবেলা রান্না করে তিনবেলা খাই। পানি এখনো বাড়ি থেকে নামি যায়নি।’
সাহেবের আলগা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন জানান, ইউনিয়নের প্রায় আট হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। আগে চার টন ও বুধবার আরও চার টন মিলে এ পর্যন্ত আট টন চাল বরাদ্দ পেয়েছি। আগে যাদের দেওয়া হয়নি এখন তাদের চাল দেওয়া হবে। পানি নামতে শুরু করেছে। আশা করা যাচ্ছে দু-একদিনের মধ্যে ঘরবাড়ি থেকে পানি নেমে যাবে।
কোথাও কোথাও সামান্য ত্রাণ তৎপরতা শুরু হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
জেলা প্রশাসক খান মো. নূরুল আমিন জানান, নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। বন্যাকবলিত মানুষের জন্য এ পর্যন্ত সরকারিভাবে ৩০০ টন চাল ও ১০ লাখ ৫ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়। আরও ৫০০ টন চাল ও ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলে বিতরণ করা হবে।
কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন জানান, বন্যাকবলিত মানুষের জন্য আরও ত্রাণ প্রয়োজন। এ জন্য দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার সঙ্গে কথা হয়েছে। যত ত্রাণ সহায়তার প্রয়োজন হবে তা তিনি দিবেন।
এ ছাড়া বন্যাপরবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট ও কৃষি পুনর্বাসনের জন্য জাতীয় সংসদে কথা বলবেন বলে জানান তিনি।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের ৩০ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
অন্যদিকে সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি ২২ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জেআই





