আজ রবিবার মধ্যরাতেই অর্থাৎ রাত ১২টায় শেষ হচ্ছে ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা কাজ।
২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার এ ৩ সিটি করপোরেশনে ভোট গ্রহণকে সামনে রেখে বিধি অনুযায়ী মধ্যরাতই প্রচার-প্রচারণার শেষ সময়।
কমিশন সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) নির্বাচন বিধিমালার বিধি ৭৪-এর উপ-বিধি (১) অনুযায়ী, কোন নির্বাচনী এলাকার ভোট গ্রহণ শুরুর পূর্ববর্তী ৩২ ঘণ্টা, ভোট গ্রহণের দিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা এবং ভোট গ্রহণের দিন রাত ১২টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে উক্ত নির্বাচনী এলাকায় কোন ব্যক্তি কোন জনসভা আহ্বান, অনুষ্ঠান বা তাতে যোগদান করা এবং কোন মিছিল বা শোভাযাত্রা সংঘটিত বা তাতে যোগদান করতে পারবেন না।
উপ-বিধি ২ অনুযায়ী, কোন আক্রমণাত্মক কাজ বা বিশৃঙ্খলামূলক আচরণ করতে পারবেন না। ভোটার বা নির্বাচনী কার্যে নিয়োজিত বা দায়িত্ব পালনরত কোন ব্যক্তিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা যাবে না। কোন অস্ত্র বা শক্তিও প্রদর্শন বা ব্যবহার করতে পারবেন না। উপ-বিধি (৩) অনুযায়ী, উল্লেখিত আইন ভঙ্গ করলে তিনি ন্যূনতম ৬ মাস ও অনধিক ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
সুত্র জানায়, ২৬ এপ্রিল থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত নির্বাচনী অপরাধ দমন ও সংক্ষিপ্ত বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৪৭৪ জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪৪৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৩০ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছেন।
ইতিমধ্যে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠানের জন্য কমিশন ৩ সিটি নির্বাচনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। পক্ষান্তরে ৩ সিটির রিটার্নিং অফিসাররা জানিয়েছেন, নির্বাচনী আইন অনুযায়ী রবিবার মধ্যরাতে সময়সীমা শেষ হওয়ার পর প্রচারণা চালালে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইতোমধ্যেই গত মধ্যরাত ১২টা থেকে ২৯ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত উল্লেখিত ৩ সিটিতে মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এদিকে নির্বাচনী এলাকাগুলোকে শান্তিপূর্ণ রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৭৮ হাজার ৭৩০ জন সদস্য মোতায়েন করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ ৩ সিটি করপোরেশনের ভোটার বা বাসিন্দা নন, এমন ব্যক্তিদের গতকাল শনিবার মধ্যরাত থেকে নির্বাচনী সিটিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যারা অবস্থান করছেন, তাদেরও এ ৩ সিটি ত্যাগ করতে হবে।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সিটি নির্বাচনে ৭০ প্লাটুন বিজিবি সদস্য থাকবেন। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন।
একই সাথে সেনাবাহিনীও প্রস্তুত অবস্থায় থাকবে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাদের ডাকলে তারা ক্যান্টনমেন্ট থেকে বের হয়ে আসবে।
ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিরাপত্তা নিয়ে শনিবার মিন্টো রোডে ডিএমপির তথ্যকেন্দ্রে সংবাদ সম্মেলন করেন ডিএমপির কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেন, নির্বাচনে কালোটাকা ও পেশিশক্তি প্রতিহত করা হবে। কোনো ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না। তিনি জানান, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মোট ১ হাজার ৯৮২টি ভোটকেন্দ্র আছে। এর মধ্যে ১৪২৯টি ভোট কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ (ঝুঁকিপূর্ণ) বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এসএইচ





