গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের অস্ত্রাগার থেকে একটি চাইনিজ রাইফেল খোয়া যাওয়ার ঘটনায় আরিফুল ইসলাম নামের এক কারারক্ষীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে তাঁকে গাজীপুর অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক মনোয়ারা বেগম তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তাঁর বাড়ি মৌলভীবাজার জেলায়।

কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, খোয়া যাওয়া রাইফেলটি গতকাল বুধবার দুপুরে কারাগারের অভ্যন্তরে একটি ডোবা থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন ওই কারাগারের কারারক্ষী আরিফুল ইসলাম। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে জয়দেবপুর থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়।

গ্রেপ্তারের পর তিনি জানান, রাইফেলটি ডোবায় আছে জানিয়ে তিনি তাঁর এক ভাগনেকে তথ্যটি কারাধ্যক্ষের মোবাইলে বার্তা পাঠাতে বলেন।

জয়দেবপুর থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) খন্দকার রেজাউল হাসান জানান, এ ঘটনায় গত সোমবার সন্ধ্যায় জেল কতৃ‌র্পক্ষের দায়ের করা জিডিটিই মামলা হিসেবে গণ্য করে আরিফুলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

উল্লেখ্য, আরিফুল ইসলাম ২০০৮ সালে চাকরিতে নিয়োগ পান। তিনি ২০১২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে এ কারাগারে কর্মরত। ২০১৩ সালে তাঁর বিরুদ্ধে বন্দীদের কাছে মোবাইল ফোন সরবরাহের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এর শাস্তি হিসেবে কারা কতৃ‌র্পক্ষ ওই বছরের ২২ ডিসেম্বর প্রথমে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে। মামলায় রায়ে তাঁর শাস্তি হিসেবে পাঁচ বছরের ইনক্রিমেন্ট বন্ধের আদেশ হয়। পরে তিনি একই কারাগারে আবার যোগ দেন।

গত রোববার বিকালে গাজীপুরের কাশিমপুরের হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের অস্ত্রাগারে অস্ত্র গণনার সময় একটি চাইনিজ রাইফেল কম পাওয়া যায়। অস্ত্র খোয়া যাওয়ার ব্যাপারে গত সোমবার সন্ধ্যায় কারা কর্তৃপক্ষ জয়দেবপুর থানায় জিডি করে। ঘটনা তদন্তে ওই রাতেই রাজশাহী বিভাগের ডিআইজি (প্রিজন) বজলুর রহমানকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়।

এ ছাড়াও ওই ঘটনায় গাজীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত সোমবার সন্ধ্যায় গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তফা কামালকে প্রধান করে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অস্ত্র খোয়া যাওয়ার ঘটনায় অস্ত্রাগারের প্রধানসহ তিন কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্ত হওয়া কারারক্ষীরা হলেন সিরাজুল ইসলাম হাওলাদার, তৌহিদুল ইসলাম ও এহসানুল হক।

কেএইচ