রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জমি অধিগ্রহণের টাকা আত্মসাতের বাধা দেয়ায় মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান সেলিমকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের পরিববার।

বুধবার (৮ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সেলিমের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানিয়েছে তার পরিবার।

নিহত মুক্তিযোদ্ধা মুস্তাফিজুর রহমান সেলিম এর ছেলে তানভির রহমান তন্ময় বলেন, ‘আমার বাবাকে খুন করার প্রধান কারণ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ করার জন্য পদ্মা নদীর খাস জমি অধিগ্রহণ করলে প্রান্তিক কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পরে কৃষকদের ক্ষতিপূরণ বাবদ ২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। আর সে টাকা স্থানীয় চেয়ারম্যান আত্মসাৎ করার চেষ্টা করলে আমার বাবা বাধা দেয়। আমার বাবাকে হত্যা করার কিছু দিন আগে চেয়ারম্যান তার বাহিনীকে নিয়ে আমাদের বাড়িতে এসে বাবাকে হুমকি দেয় যে টাকা উত্তোলনের বাধা দেয়ার ফল ভালো হবে না।’

তিনি বলেন, ‘গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে সন্ত্রাসীরা আমার বাবাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে তাকে হাসপাতালে নিলে ডা. তাকে মৃত ঘোষণা করে। পরে থানায় মামলা করলে পুলিশ ঘটনায় জড়িত আছে মর্মে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল বাকী আরজু, মো. রকি বিশ্বাস, মো. রাজিব, মো. লিখন আহমেদকে গ্রেফতার করে। পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যায় ব্যবহৃত দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করে। তারা এখন হত্যা এবং আগ্নেয়াস্ত্র মামলায় জেল হাজতে আছে। কিন্তু আসল পরিকল্পনাকারীদের গ্রেফতার করা হয় নাই।’

প্রশাসনের কাছে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে হুকুমদাতা, পরিকল্পনাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি করেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আসামি মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী আরজু ও মো. রকি বিশ্বাস ঈশ্বরদীর পাকশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এনামুল হক বিশ্বাসের ভাতিজা ও ছেলে। চেয়ারম্যান আমার এবং আমার পরিবার আত্মীয়-স্বজন সাক্ষীদের সরাসরি সাক্ষাতে ও মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ও ভয়-ভীতি দেখিয়ে মামলা তুলে নেয়ার চাপ দিচ্ছে। ফলে পরিকল্পনাকারী ও হুকুমদাতাদের গ্রেফতার করা় বিলম্ব হওয়ায় আমিসহ আমার পরিবার আত্মীয়-স্বজন ও সাক্ষীরা নিরাপত্তাহীনতা ভুগছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাবা খুন হওয়ার পরে প্রশাসনসহ সব মহলে গিয়েছি কিন্তু আমার বাবার হত্যার প্রধান মদদদাতা চেয়ারম্যান এনামুলকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। যার ফলে সে প্রতিনিয়ত আমাদেরকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।’

এ সময় তিনি তার বাবার হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি প্রদান করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন নিহত মুক্তিযোদ্ধা মুস্তাফিজুর রহমান সেলিমের মেয়ে সানজানা রহমান প্রতু এবং ঈশ্বরদী উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা।


সাইফুল ইসলাম/জেড