বুড়িমারী বন্দর ব্যবসায়ীরা কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা ও ইন্সপেক্টরদের কাছে রীতিমত জিম্মী। কিন্তু সম্প্রতি দুদকের ভয়ে বুড়িমারীতে ঘুষ লেনদেন অনেকাংশে কমে গেছে বলে দাবী করলেন এক রাজস্ব কর্মকর্তা। তিনি বলেন, অনিয়ম দূর্নীতি করতে সাহস পাচ্ছেন না কর্মকর্তারা।
ফিরোজ উল আলম নামের ওই রাজস্ব কর্মকর্তা ফেব্রুয়ারীতে এসে ফলের মৌসুম পাননি বলে আফসোস করেন।তিনি এর আগে বুড়িমারীতে কাস্টমসের ইন্সপেক্টর পদে কর্মরত ছিলেন বলে সব আটঘাট তার জানা আছে। মঙ্গলবার সন্ধায় খোষগল্পের ফাঁকে একসময় তিনি এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, চলতি মাসে পাটগ্রামে দুদকের গণশুনানী অনুষ্ঠানের আগে ও পরে দুদকের কয়েকজন কর্মকর্তা বুড়িমারীতে ঘুরাফেরা করার কারণে একটু ভয় লাগে কখন যে কী হয়? যার কারণে তিনি মেস চালাতে হিমশীম খাচ্ছেন বলে সোজা সরল মন্তব্য করেন।
তবে তিনি স্বীকার করেছেন ফলের মৌসুমে তিন মাসে বন্দরে গাড়ী প্রতি ৮২০০ টাকা লেনদেন হয়েছে। সে সময় কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা কামাল উদ্দীন শাহীন, ইন্সপেক্টর ক্যাশিয়ার হারুন ও ইমরান নামের কর্তারা প্রতি গাড়ীতে ৩০০০ টাকা হিসেবে নেয়ার পর দফায় দফায় প্রায় ৮০ লাখ টাকা ভাগ করেন।
প্রায় সাড়ে তিনহাজার ভুটানী কমলার গাড়ীর মধ্যে আড়াই হাজার গাড়ীতে কাস্টমসের স্পীডমানি জমা হলেও বাকী ১ হাজার গাড়ীতে টাকা পাননি কাস্টমসের কর্তারা। এলাকার নেতাদের নামে ও সিন্ডিকেট সদস্যরা নিজেদের গাড়ীতে কাস্টমসকে ফাঁকি দেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।
গত ফেব্রুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহে টাকা ভাগবাটোয়ারার ঘটনা ঘটে। এদিকে, বুড়িমারী স্থল শুল্ক বন্দরের দ্বিতল ভবনে থাকা স্থলবন্দর কতৃপক্ষ কর্মকর্তারা ফলের গাড়ী প্রতি ৪০০ টাকা নিয়েছেন। গাড়ী আউট পাস ও সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৫ টা অফিস আওয়ারের পর কার্যক্রম রাতবিরাতে ১০/১১ টা পর্যন্ত চলার কারণে অতিরিক্ত কাজ ও পরিশ্রম বাবদ টাকা নেয়া হয় বলে জানা যায়।
বদলীকৃত উপ পরিচালক ডিডি মামুন তরফদার বাদে ৮ জন কর্মকর্তার মাঝে ১৩ লাখ টাকা ভাগ হয় বলে এ খবর ছড়িয়ে পড়ে। নতুন ডিডি মনিরুল ইসলাম এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে তিনি কথা প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন।
জানা যায়, এ বছর ফলের ব্যবসায় ভুটানী ব্যবসায়ীরা যাতে মাল চাপে দিতে না পারে এবং বাংলাদেশে যাতে ফলের চাহিদা অনুযায়ী ফল সরবরাহ ঠিকঠাক থাকে, সবাই যাতে লাভের মুখ দেখে, দেশের বিভিন্ন শহরে ফল ব্যবসায়ীরা যাতে নিয়ন্ত্রনে রাখা যায় সে কারণে সিন্ডিকেট।
ফলের রমরমা বাণিজ্য নিয়ন্ত্রনে রাখতেই এ ধরণের বিশেষ একটি সিন্ডিকেট গঠন করা হয়। এ সিন্ডিকেট বিভিন্ন সংস্থার নামে গাড়ী প্রতি আরও খরচ নেন ৫২০০ টাকা বলে বন্দরের নির্ভরশীল সূত্র দাবী করে।
শামসুদ দোহা/এমএনজে





